১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

আত্মহত্যা : কারণ ও প্রতিকার (৩য় পর্ব)

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

আত্মহত্যা : কারণ ও প্রতিকার (৩য় পর্ব)

আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া যাবে কি?

এক যুদ্ধের ময়দানে এক সাহাবি মারাত্মক আঘাত পেয়ে সহ্য করতে না পেরে তরবারির ফলা বিদ্ধ করে আত্মহত্যা করে বসেন। নবিজির কাছে তার লাশ নিয়ে আসা হলে তিনি তার জানাযা পড়েননি। [মুসলিম, আসসাহিহ : ২৩০৯]

অনেকে মনে করে থাকেন আত্মহত্যাকারীর জানাযাই পড়া যাবে না। প্রমাণ হিসেবে তারা উপরোক্ত হাদিসটি পেশ করে থাকেন। এটি উমর ইবনু আবদিল আযিয ও আওযায়ির মত। কিন্তু বাকি সমস্ত আলিমদের মতামত হলো, জানাযা পড়া হবে। আর উপরোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মূলত অন্যদেরকে এ ধরনের মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করার জন্যই আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়ানো থেকে বিরত থেকেছেন। আর সাহাবিগণ এমন ব্যক্তির জানাযা পড়েছেন। [নববি, শারহু মুসলিম : ৭/৪৭]

এ জন্য উচিত হলো, নেতৃস্থানীয় আলিমগণ আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়বেন না, বরং সাধারণ পর্যায়ের কেউ পড়বেন। অবশ্য অনেক মুসলিম সমাজে এখনও এই নিয়মই চালু আছে।

আত্মহত্যাকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামি?

আত্মহত্যা একটি জঘন্য কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যাকারী আল্লাহর গজব ও ক্রোধে নিপতিত হয়। আল্লাহ চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন, চাইলে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। কারণ, এটা কোনো শিরক কিংবা কুফর নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরিক করাকে, এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে সে তো ঘোর পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হলো।’ [সুরা নিসা, ৪ : ৪৮]

আহলুস সুন্নাহর সর্বসম্মত আকিদাহ হলো, এমন কবিরা গুনাহগার জাহান্নামে গেলেও সেখানে চিরস্থায়ী হবে না। কারণ, একমাত্র কাফিররাই চিরস্থায়ী জাহান্নামি। মুমিন (যদি কোনো কুফর বা শিরক না থাকে) আল্লাহর দয়ায় তার ঈমান, কোনো আমল কিংবা নবিজির শাফায়াতে একদিন না একদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবেই। এ ব্যাপারে অসংখ্য সহিহ হাদিস রয়েছে।

আত্মহত্যাকারীর জন্য দুয়া করা যাবে কি?

মৃত্যুর পর কাফির-মুশরিকদের জন্য দুয়া করা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নবি ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা জাহান্নামি। নিজ পিতার জন্য ইবরাহিমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। পরে যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহিম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল।’ [সুরা তাওবাহ, ৯ : ১১৩-১১৪]

সুতরাং যারা সুস্পষ্ট কুফর ও শিরকের ওপর মারা যাবে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোনো ক্ষমাপ্রার্থনা করা যাবে না। আর আমরা আগেই জেনেছি যে, আত্মহত্যাকারী মুসলিম কাফির হয়ে যায় না। বরং কবিরা গুনাহগার হিসেবে গণ্য হয়। অতএব তার জন্য অবশ্যই দুয়া করা যাবে। বরং আমাদের উচিত তাদের জন্য বেশি বেশি দুয়া করা। এর কারণে হয়তো আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে পারেন।

চলবে ইনশাআল্লাহ।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।