১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

গান শুনবেন মামা ভাল গান জানি টাংগুয়ার হাওরের তামিম

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯

গান শুনবেন মামা ভাল গান জানি টাংগুয়ার হাওরের তামিম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গান শুনবেন(মামা বা ভাই সম্ভোধন করে)ভাল গান জানি। হাওরে দেখা যায়, নৌকা নিয়ে হাওরে যে কোন পর্যটক আসলেই তার মিস্টি গলার গান শুনবেন(মামা বা ভাই সম্ভোধন করে)ভাল গান জানি। যারা শুনতে চায় তাদেরকে গান শুনিয়ে মুগ্ধ করে তার মিস্টি গলায় গান। গান গুলো তার নিজের না। তবে শাহ আব্দুল করিম, রাধারমন, হাসন রাজাসহ বিভিন্ন জনের গান মুকস্থ করে নিজ কন্ঠে স্থানীয় বাসায় নিজেই মত করেই গান করছে আনায়াসে। হাওরে এসে হাওর পাড়ের ছোট ছোট শিশুর গান শুনে মুগ্ধ সবাই। ফলে খুশি হয়ে যে যার মত করে ১০টাকা থেকে ১০০টাকা অনেকেই খুশি হয়ে আরো বেশি টাকা দিচ্ছে।

কথা হয় তার সাথে। তামিম জানায়,সারাদিনে ৩-৪শত টাকা উপার্জন হয়। কোন দিন বেশি আবার কোন দিন কম। আবার কোন দিন উপার্জন নাই। এভাবেই চলছে তার জীবন সংগ্রাম। তবে সে নিয়মিত স্কুলে যেতে চায় কিন্তু পরিবারের দিকে তাকালে সব ভুলে আবারও হাওরে। পিতাহীন পরিবারে সবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে তিন ভাই বোনের ছোট শিশু তামিম(৮)। জীবিকার তাগিদে বেঁচে নিয়েছে টাংগুয়ার হাওরে আগত পযর্টকদের গান শুনানোর কাজ। এ কাজে পাশা পাশি করছে লেখাও। সে জয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র। কখনও স্কুল ফাকিঁ দেয়ে আবার কখনও স্কুল থেকে ফিরেই ছোট নৌকা নেয়ে চলে আসে টাংগুয়ার হাওরে। এসে গান গেয়ে সারাদিন বা যতটুকু সময় পর্যটকগন হাওরে থাকে ততক্ষণ যা উপার্জন হয় তা দিয়ে চলে তাদের তিন ভাই ও মাকে নিয়ে অভাবের ছোট সংসার।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত হিরু মিয়ার ছেলে তামিম তার ইচ্ছা বড় হয়ে ভাল শিল্পী হয়ে সবাইকে গান শুনাতে। গান শুনিয়ে সবাইকে আনন্দ দিতে। এতেই তার আনন্দ। বাবা হিরু মিয়া অকালে মারা যাওয়ার পর গান গেয়েই চলছে এখন তাদের সংসার।  হাওরে বেরাতে আসা ঢাকা টুরিস্ট প্রধান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,টাংগুয়ার হাওরে এসে প্রকৃতির মাঝে আমরা হাড়িয়ে গেছি। হাওরে এসে আরো আবাক লেগেছে যে ছোট ছোট শিশুরা তাদের মত করে বিভিন্ন শিল্পীদের জনপ্রিয় গান গুলো নিজেদের মত করে গেয়েছে খুব ভাল লেগেছে। যা অসাধারণ। একটু গাইড লাইন পেলে এই শিশুরা আরো ভাল কিছু করতে পারবে। আরো অবাক লেগেছে এই শিশুরা গান গাওয়ার পাশাপাশি আবার পরাশুনাও করছে। হাওর পাড়ের জীবন জীবিকা একবারেই ভিন্ন একটা পরিবেশ। জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ হাদিউজ্জামান জানান,হাওর পাড়ের শিশুরাসহ সবাই খুবেই পরিশ্রমী। টাংগুয়ার হাওর কাছে থাকার সুবাধে তারা অনেকই গান গেয়ে আগত পর্যটকদের আনন্দ দেয় তারা(পর্যটক)ভালবেসে খুশি মনেই তাদের টাকা দিচ্ছে। এতে করে অভাবগ্রস্থ পরিবার গুলো এই টাকায় চলে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।