১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ব্রিজ থেকে ফেলে দিলো বখাটে!

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ব্রিজ থেকে ফেলে দিলো বখাটে!

স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আকমল হোসেন রুমেল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ব্রিজ থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফিলে দিয়েছে দুই বখাটে। এতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বখাটেরা হলো উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা রমজান মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেন রানা (২২) ও একই ইউনিয়নের একিদত্তপুর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রনি (২০)।

রানা উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ ও রনি শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। আহত রুমেল উপজেলার সদর ইউনিয়নের মীরের গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় আহত রুমেলের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন ওই দুইজনের নামে কুলাউড়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বখাটে জয়নাল আবেদীন রনিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আকমল হোসেন রুমেল স্থানীয় একিদত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তার মেয়ে সাবিয়া হোসেনকে (৭) আনতে যান। দুপুর ১২টার দিকে রুমেল ও তার চাচাতো ভাই আনকার হোসেন তাদের মেয়েদের স্কুল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পথে স্থানীয় মীরেরগ্রাম ও মুকুন্দপুর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বাড়ুয়া ছড়া ব্রিজের ওপর দেখতে পান বখাটে বেলাল হোসেন রানা ও জয়নাল আবেদীন রনিকে। এসময় তারা ব্রিজে দাঁড়িয়ে স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিং করছিলো।

আকমল হোসেন রুমেল ও আনকার হোসেন একত্রে আচরণের প্রতিবাদ করলে বখাটে রানা ও রনি তাদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আকমল হোসেনের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়ায় বখাটেরা। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বখাটেরা রুমেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজের ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ২৫ফুট নিচে ফেলে দেয়। এতে গুরুতর আহত আকমলের চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে গেলে তার ভাতিজা কুলাউড়া সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাহাত হোসেন রাজের ওপরও হামলা চালায় রনি ও রানা।

পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। আকমল হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রুমেলের কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। বাম হাতের কব্জিতে জখম হয়েছে।

শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির মিয়া বলেন, রনি স্কুলের অনিয়মিত ছাত্র। ঘটনার দিন সে স্কুলে আসেনি। স্কুলের পাশের একটি দোকানে সে বসেছিল। স্কুলের অ্যাসেম্বলির সময় তাকে বাইরে বসতে দেখে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় বইখাতা নিয়ে আসেনি। এরপর আমি বিদ্যালয়ে চলে আসি। পরে খবর পাই সে রুমেল নামে এক ব্যক্তির ওপর সহযোগীদের নিয়ে হামলা চালায়। এর আগে প্রায়ই সে স্কুলছাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করতো।

এ ঘটনায় কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ ঘটনায় আকমল হোসেনের ভাই দেলোয়ার হোসেন দুজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক জানান, আহত আকমল হোসেনের কোমরে আঘাতজনিত কারণে দুই পা কিছুটা অসাড় মনে হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, আরেক আহত কলেজছাত্র রাজের ডান হাতের কাধের জয়েন্টের হাড় সরে গেছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।