১৯, অক্টোবর, ২০১৯, শনিবার | | ১৯ সফর ১৪৪১

সংগ্রামী লুৎফরের জীবন কি এভাবেই থমকে যাবে?

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

সংগ্রামী লুৎফরের জীবন কি এভাবেই থমকে যাবে?

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  মুহাম্মদ লুৎফর রহমান।বয়স ৪৩। বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের উত্তর মকিমপুর গ্রামে। ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স প্রগতি প্রকল্পে কর্মসূচী সংগঠক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার চোখের সমস্যা দেখা যায়। একটি চোখ অন্ধ হয়েছে বছর খানেক আগে। অন্যটিও বন্ধ হওয়ার পথে। আর্থিক সংকটে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। পিতা মুহাম্মদ কদম আলী বাংলাদেশ বেতারের একজন কন্ঠশিল্পী এবং মা গোলাপজান একজন গৃহিণী। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে, বোন দুইজন সবার বড়। আর তিন ভাইয়ের মধ্যে লুৎফর বড়। 

 

১৯৯২ সালে মানিকগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৮১০ নম্বর পেয়ে এসএসসি পাশ করেন তিনি। আর্থিক সংকটে সময়মত কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ১৯৯৭ সালে সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন।২০০০ সালে ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ব্যাচেলর অব মিউজিক (বিমিউজ) পাশ করেন। ওই পরীক্ষায়, ৫৫ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জন পাশ করেন। ২০০৩ সালে সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।২০০৭ সালের ২২ এপ্রিল তিনি ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স প্রগতি প্রকল্পে কর্মসূচী সংগঠক হিসেবে যোগদান করে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। ২০০৬ সালে বিয়ে করে প্রতিবেশী রোমেনা আক্তার রুবী। শ্বশুর আনিস উদ্দিন ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং পেশায় ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। ৯০ বছর বয়সী শ্বাশুড়ী শরিফা বেগম চলতেই পারেন না। সবমিলিয়ে নাজুক অবস্থা তার পরিবারের। 

 

দীর্ঘদিন আর্থিক সংকটে তার সংসারই চলছে না। আর চিকিৎসাতো দুরের কথা। তার সহপাঠি, বন্ধু-বান্ধবরা বেশ কয়েকবার কয়েকবার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তারাও এখন খুব একটা সহায়তা দিতে পারছেন না। এমতাবস্থায়, তিনি সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। সহায়তা পাঠাবার ঠিকানা- মুহাম্মদ লুৎফর রহমান, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০২০০০১১০৪৭৭০৩, অগ্রণী ব্যাংক, জাফলং শাখা, সিলেট এবং সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ২২৮২১০১০৪৬৯৬৪, পূবালী ব্যাংক, বরইকান্দি শাখা, সিলেট। বিকাশ নম্বর-০১৭৬৫০৫৬৭৩৭।মানিকগঞ্জ জেলা ব্র্যাকের প্রতিনিধি আবু জাফর বলেন, লুৎফর রহমান ব্র্যাকে চাকুরী করার সুবাদে বীমা খাত থেকে কিছু টাকা পেয়েছেন। কিন্তু অনেক দিন ধরে তিনি চাকুরী থেকে বিরত থাকার কারণে অফিসিয়ালভাবে তাকে আর সহায়তা দেয়া সুযোগ নেই প্রতিষ্ঠানের। তিনি যদি সুস্থ হয়ে চাকুরীতে যোগদান করতে চান তাহলে তিনি চাকুরী ফিরে পাবেন। 

 


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।