১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

পুলিশের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসী মুছা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

পুলিশের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসী মুছা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ওসি,এসআইকে কোপানো তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহান আহমেদ মুছাকে দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মুছার কোনো হদিস পাচ্ছেনা পুলিশ । এঘটনায় জনমনে আতংক উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সালামতপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার পুত্র উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহান আহমদ মুছাকে গ্রেফতারে আধুনিক প্রযুক্তির সহযোগীতা নিচ্ছে পুলিশ। গত (১২ই সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহান আহমেদ মুছাকে ধরতে নবীগঞ্জ শহরতলীর সালামতপুর এলাকায় অভিযান চালায় নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ। অভিযানকালে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাশ এবং এসআই ফখরুজ্জামানকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় মুছা ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় আহত ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাশকে সিলেট এবং এসআই ফখরুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানার এসআই ফিরোজ আহমেদ বাদী হয়ে ১৫ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই মুছার মা সামছুন্নাহার (৫০),বোন মৌসুমি আক্তার (২৬),শাম্মী আক্তার (২২),তন্নী আক্তারকে (১৯) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মুছার সহযোগী আহমদ হোসেন(২০), মুছার ভগ্নিপতি মামলার অন্যতম আসামি কামাল হোসেনকে(২৯) গ্রেফতার করে পুলিশ। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনার এজাহার ভুক্ত আসামী সন্ত্রাসী মুছার একান্ত সহযোগী আলোচিত হভেন হত্যা মামলার আসামী হাবিবুর রহমান কাশেমকে(২৭) বানিয়াচং উপজেলার ঈদগাহ বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উল্লেখিত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। এদিকে, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক স¤্রাট মুছার আত্মগোপন রয়েছে । রাজনৈতিক দলের মদদ থাকার অভিযোগে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ফোনালাপ নজরদারি রেখেছে প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখা।

 

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন,পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পর্যন্ত মুছার মা বোনসহ ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত মুছাকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।  উল্লেখ্য, পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আলোচনার শীর্ষে উঠে আছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহান আহমেদ মুছা। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, মাদক অপহরণসহ ৯টি মামলা চলমান থাকার পরও সে ছিল বেপরোয়া। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ছোট বেলায় সৎ ভাইকে হত্যার মাধ্য দিয়ে অপরাধ জগতে যাত্রা শুরু হয় মুসার হয় মুসার। তৎকালীন উপজেলা আওয়ামীলীগের ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতার সুপারিশের প্রক্ষিতে উপজেলা ছাত্রলীগের পদবি লাভ করে মুছা। ২০১৩ সালে ছাত্রলীগ নেতা হেভেনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। হেভেন হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মুছাকে এজাহার ভুক্ত আসামী হিসেবে পুলিশ তালিকাভুক্ত করে। এরপর ছাত্রলীগের ওই নেতার আনুগত্য ত্যাগ করে উপজেলা আওয়ামীলীগের জনৈক কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক মদদে বেপরোয়া হয়ে ওঠে মুছা। এরপর থেকে সে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকা-ের মাধ্যমে নবীগঞ্জ শহরসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। অতি সম্প্রতি সে প্রকাশ্য দিন-দুপুরে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের হীরা মিয়া গালর্স স্কুলের সামনে প্রকাশ্য অস্ত্র দেখিয়ে ৩টি দোকানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাটসহ ৩টি মোটর সাইকেলসহ ৭ লাখ টাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর বিকালে মুুছা শ্রমিক নেতা হেলাল আহমদের বাড়ির সীমানায় বেড়া দিয়ে ওই পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই সুজিত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে মুুছা ও তার পরিবারের সদস্যদের রোষানলে পড়ে। এক পর্যায়ে মুছাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলেও তার হুমকীতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় পুলিশ। মুছার সাম্প্রতিক সময়ের এসব সন্ত্রাসী কর্মকা-ে নবীগঞ্জ শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন জানান, মুছা এখন শহরের একটি আতঙ্কের নাম।

 

তার বিরুদ্ধে শুধু ছাত্রলীগ নেতা হেভেন হত্যা মামলাই নয় তার সৎ ভাই হত্যা মামলাসহ একাধিক ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি, সন্ত্রাসী কর্মকা-, রোড ডাকাতি, ইন্ডিয়ান চোরাই মোটর সাইকেল ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তার দাপটে কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। অভিযোগ রয়েছে, মুছা তার চাচা নিজাম উদ্দিনের বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল, ফিশারির মাছ লুট, কয়েক লক্ষাধিক টাকার গাছ জোরপূর্বক কেটে বিক্রি করে। এর প্রতিবাদ করায় ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার চাচাদের হুমকী দেয়। প্রাণের ভয়ে তারা বাড়িঘর ছাড়া রয়েছে। গত ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসী মুছার পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে। রাত প্রায় সাড়ে ১২ টা থেকে পৌনে ২ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী। এ সময় মুছার স্বীকারোক্তিতে ৫৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।