১৯, অক্টোবর, ২০১৯, শনিবার | | ১৯ সফর ১৪৪১

নতুন পদ্ধতির ভ্যাট নিবন্ধনে গতি নেই

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১, ২০১৯

নতুন পদ্ধতির ভ্যাট নিবন্ধনে গতি নেই

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন পদ্ধতির ভ্যাট নিবন্ধন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিআইএন) ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। যারা অনলাইনে নিবন্ধনের অংশ হিসেবে আগে নিবন্ধন নিয়েছেন, তাদেরও নতুন পদ্ধতিতে ফের নিবন্ধন নিতে হবে।

মূলত আগের ৯ সংখ্যার নিবন্ধন ব্যবস্থায় কিছু জটিলতা দেখা দেওয়া, নতুন অর্থবছরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আসা এবং ভুয়া নিবন্ধন ঠেকাতে ১৩ সংখ্যার ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ের মধ্যে মাত্র ২০ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান নতুন পদ্ধতিতে নিবন্ধন নিয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে ভ্যাট অনলাইন অফিস সূত্র জানিয়েছে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে। অথচ এর আগে ৯ সংখ্যার অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ভ্যাট নিবন্ধন বা বিআইএনভুক্ত হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার প্রতিষ্ঠান।

মূলত নিবন্ধন নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা, প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব যাচাইয়ের নামে অহেতুক হয়রানি, নিবন্ধন দিতে দেরিসহ বেশকিছু কারণে নিবন্ধনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। আবার এনবিআরের কিছু পরিবর্তনের কারণে অনলাইনে এক অফিসের আবেদন অন্য অফিসে চলে যাচ্ছে। ঐ অফিস যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে আবেদন পাঠাচ্ছে না। এসব কারণে অনেক সময় আবেদন করার পর ক্ষেত্রবিশেষে এক মাসেরও বেশি সময় ঝুলে থাকছে। অথচ আবেদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার কথা। ফলে প্রত্যাশিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। অন্যদিকে আগের ব্যবস্থায় আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই নিবন্ধন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক ভুয়া নিবন্ধনও হয়েছে। এর মধ্যে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানও ছিল। নতুন ব্যবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানও বাদ পড়েছে। তা সত্ত্বেও সরকার নির্ধারিত সময়ে এত কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসায় বিব্রত এনবিআরও। এ পরিস্থিতিতে নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে এনবিআর। এনবিআরের আওতাধীন ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প অফিস একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়, আলোচ্য সময়ের মধ্যে নিবন্ধন গ্রহণ করা না হলে কোনো আমদানিকারকের পক্ষে ঋণপত্র ইস্যু করা যাবে না। নতুন বিআইএন ছাড়া আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। অর্থাত্ চলতি মাসের মধ্যে নতুন ১৩ সংখ্যার ভ্যাট নিবন্ধন করা না হলে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

এতে বলা হয়, ১৩ সংখ্যার নিবন্ধন সংখ্যা ছাড়া অনলাইনে মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব নয়। অপরদিকে দেখা যাচ্ছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রেই নতুন ১৩ সংখ্যার নিবন্ধন সংখ্যা ছাড়াই আমদানিকারকের পক্ষে ঋণপত্র ইস্যু করছে, যা পরবর্তীকালে জটিলতা সৃষ্টি করবে। বর্ধিত সময়ের পর নিবন্ধন ছাড়া কোনো আমদানিকারকের ঋণপত্র যেন ইস্যু করা না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে ভ্যাট নিবন্ধনে হয়রানি না করা কিংবা অহেতুক দেরি না করতে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর। এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়, আবেদনের পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম যাচাই করে নিবন্ধন দেওয়া কিংবা না দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ জানাতে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

সুএঃ দৈনিক ইত্তেফাক


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।