১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্গতি দিন দিন বাড়ছে

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ , অক্টোবর ২, ২০১৯

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্গতি দিন দিন বাড়ছে

দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে চলে যাওয়াটা কোনো কাজের কথা নয়। বাস্তবতা হচ্ছে বাজারে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া লাফিয়েই চলেছে। লাগাম টেনে ধরার কোনো ব্যবস্থা নেই। চালের বাদ বাড়ছে। মশুর ডালের দামও উর্ধ্বমুখী। এছাড়া পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী। কিছুদিন আগেও যে পেঁয়াজ ছিল ৪৫ টাকা কেজি তা এক লাফেই বেড়ে এখন ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির জন্য নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে। তাই অতিরিক্ত দাম বাড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে, তার ওপর পেঁয়াজের দাম বাড়ায় যেন বাজ পড়ছে ভোক্তাদের মাথায়। প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো দেখার কি কেউ নেই?

কথায় আছে, দুর্জনের ছলের অভাব হয় না। ব্যবসায়ীদের আমরা দুর্জন বলতে চাই না। আর সব ব্যবসায়ীর দায়-দায়িত্ব এবং নীতিনৈতিকতাও একই পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না। তবে একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর লাভ ও লোভের কারণেই যে পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

 যে কোনো উসিলায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন-কানুন নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই এখানে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হবে আর সরকার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অবিলম্বে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে যার যা করণীয় রয়েছে সেটি করতে হবে। এজন্য সরকার-ব্যবসায়ী সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। ত্যাগ করতে হবে মুনাফালোভী মানসিকতা। 

মুনাফালোভী এই মানসিকতা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সরকারের হাতে খুব একটা নেই। তারপরও টিসিবিকে কার্যকর করে একটি প্যারালাল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়। পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পরও কী এক্ষেত্রে কারো কোনো দায়-দায়িত্ব নেই?

 


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।