১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

টাইম ম্যানেজমেন্টঃ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়

প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ৩, ২০১৯

টাইম ম্যানেজমেন্টঃ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়

ফিচার ডেস্ক: কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপকে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে অতিরিক্ত চাপ আপনার সৃষ্টিশীলতা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য’র উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকে মনে করেন যে তাদের কাজের পরিবেশের উপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। হ্যাঁ, আপনি নিজের কর্মক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনি কোন কিছুই নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কোন বড় বিষয় নয় যদি আপনি নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকেন এবং আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা দিকগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকেন। আপনি যদি সবসময় অতিরিক্ত কাজের মধ্যে ডুবে থাকেন তবে তা আপনার মনোভাবকে একগুঁয়ে বা বিরক্তিকর করে তুলতে পারে। এমনকি ধীরে ধীরে আপনি আপনার আত্মবিশ্বাস হারাতে পারেন এবং আপনার কাজ অপেক্ষাকৃত কম ফলপ্রসূ বলে মনে হবে। যদি আপনি কর্মক্ষেত্রের চাপটিকে প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রন করতে না পারেন তবে শেষ পর্যন্ত সেটি আরো ভয়াবহ রুপ ধারন করতে পারে। জটিল পরিস্থিতিতে নিজের উপড় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে এবং কর্মক্ষেত্রের চাপ কার্যকরভাবে পরিচালনা করার কিছু টিপস আলোচনা করা হলো।

ওয়ার্ক-লাইফ এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করুনঃ

বাড়িতে এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার প্রতিদিনের কাজের একটি সময়সূচীসহ তালিকা তৈরী করুন এবং তা মেনে চলার অভ্যাস করুন। নিয়ম করে খাওয়া এবং ঘুমের অভ্যাস করুন । সুষম ডায়েট খান এবং ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।ছুটির দিনগুলি কিভাবে কাটাবেন তা আগে থেকে প্ল্যান করুন। মাঝে মাঝে আত্বীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান এবং সম্ভব হলে বিভিন্ন সামাজিক , পেশাজীবী সংগঠনের কর্মকান্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন।মোটকথা, কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে একটি মসৃণ ভারসাম্য তৈরি করুন।

অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন নাঃ

একজন মানুষের পক্ষে টানা ৮-৯ ঘন্টা ধারাবাহিকভাবে ভাল কাজ করা বাস্তবিক পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকে মনে করেন যে তারা যদি আট ঘন্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে্ন তবে তারা বেশি কাজ করতে পারবে। এই ধারণাটি সত্য নয়। পরিবর্তে, এটি আপনার কাজ করার সামর্থ্য এবং সৃষ্টিশীলতা কে কমিয়ে দিবে এবং আপনার স্ট্রেস এর মাত্রাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দিবে।এক দিনে খুব বেশি কাজ করবেন না। কোনদিন যদি আপনার কাজের পরিমান বেশি থাকে, তবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজের তালিকা তৈরী করুন এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি ঐদিনের তালিকা থেকে বাদ দিন। প্রতিটি কর্মদিবসের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা করা অপরিহার্য।

বিলম্বে অফিসে আসার অভ্যাস পরিত্যাগ করুনঃ

সকাল সকাল কাজ শুরু করার চেষ্টা করুন। অনেক সময় ১০-১৫ মিনিটের বিলম্ব ও আপনার শান্তিপূর্ণভাবে দিন শুরুর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।অফিসে দেরিতে এসে আপনার তালিকায় আর একটি চাপ যুক্ত করবেন না।

কাজের ফাঁকে বিরতি নিনঃ

আপনার মনকে সতেজ রাখতে সারা দিন জুড়ে ১০-১৫ মিনিট বিরতি দিন। নিজেকে সচল রাখতে আপনার ডেস্ক থেকে উঠে গিয়ে সহকর্মীদের সাথে হালকা গল্প করতে পারেন।পুরো দিন এক জায়গায় বসে থাকলে আপনি নিস্তেজ ও অলস হয়ে যেতে পারেন। কলিগরা মিলে একসাথে লাঞ্চ করতে বাইরে যেতে পারেন। আপনার কাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং সামান্য বিরতি নেওয়া আপনাকে শিথিল করে তুলবে এবং নতুন চ্যালেঞ্জগুলি জয় করতে আপনাকে রিচার্জ করবে।

কাজের চাপ অনেক সময় প্রেরণাদায়ক হয় তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কাজের চাপ স্ট্রেসের সৃষ্টি করে। কার্যকরভাবে আপনার সময় পরিচালনার মাধ্যমে আপনি আপনার কার্যগুলি পরিচালনা করতে পারেন, আপনার সময়সীমাটি পূরণ করতে পারেন এবং কাজের সাথে সম্পর্কিত চাপকে পরাজিত করতে পারেন।

লেখকঃ
এস এম আহ্‌বাবুর রহমান
এইচআর প্রফেশনাল এন্ড ক্যারিয়ার কোচ


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।