১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

নিষেধাজ্ঞার পরও বন্ধ হয়নি রেনিটিডিন, চলছে বিক্রি

প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ৪, ২০১৯

নিষেধাজ্ঞার পরও বন্ধ হয়নি রেনিটিডিন, চলছে বিক্রি

গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বহুল প্রচলিত ওষুধ রেনিটিডিনে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে ওষুধটি। সেই অনুসারে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশেও ওষুধটির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বাজার থেকে এই ওষুধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ওষুধ শিল্প সমিতি। তবুও এখনো বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ রেনিটিডিন।

খুচরা ওষুধ বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি রেনিটিডিন ওষুধ ফিরিয়ে নিয়ে যায়নি। বরং আগের মতোই ওষুধটি বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন করে রেনিটিডিন ওষুধ দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো।

শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ওষুধের দোকানগুলোতে এখনো বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ রেনিটিডিন। শুধু ট্যাবলেটই নয়, রেনিটিডিনের সিরাপ এমনকি ইনজেকশনও বেশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

খুচরা ওষুধ বিক্রেতারা জানান, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাদের কাছে কোনো ধরনের নির্দেশনা আসেনি। গণমাধ্যমে কিছু প্রতিবেদন দেখলেও সরাসরি তাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এদিকে ওষুধ কোম্পানিগুলো নতুন রেনিটিডিনের চালান না দিলেও পুরনো রেনিটিডিন ফেরত নিয়ে যায়নি। আর চাহিদা বেশি থাকায় দোকানগুলোতে সব সময় ব্যাপক পরিমাণ রেনিটিডিন রাখা হতো। সব মিলিয়ে ক্রেতাদের চাহিদানুসারে বাজারে থাকা রেনিটিডিনগুলো হরদম বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সায়েম নামে এক ওষুধ বিক্রেতা জানান, ওষুধ কোম্পানিগুলো সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ওষুধ ফেরত নেবে না। অন্যদিকে ক্রেতারাও দীর্ঘদিন ধরে এ ওষুধ গ্রহণ করায় তাদের মধ্যে একটা বিশ্বাসযোগ্যতা চলে এসেছে। তাই বিক্রিও চলছে। কোম্পানিগুলো নতুন রেনিটিডিনের চালান না দিলেও পুরনো রেনিটিডিনগুলোই এখন বিক্রি হচ্ছে। আর কিছু কিছু ওষুধ যেমন: ব্যথানাশক, গ্যাস্ট্রিক, স্যালাইনের চালান ওষুধের দোকানগুলোতে সব সময় বেশি থাকে। কেননা এগুলোর চাহিদাই বেশি।

মিরপুর এলাকায় হিরন নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি বলেই আমরা বিক্রি বন্ধ করছি না। তাছাড়া ওষুধ কোম্পানিগুলো ফেরত নিলে আমাদের বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। কেননা চাহিদা থাকার কারণে এই ওষুধ প্রচুর পরিমাণে আমরা কিনে রাখতাম।

‘এখন সেইগুলো বাজেয়াপ্ত করলে অর্থাৎ আমাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে না নিয়ে গেলে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। সেই ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে ওঠাটা খুব কঠিন হবে বলেই মূলত আমরা বিক্রি করছি। আর গ্যাস্ট্রিকের জন্য মানুষ এক বাক্যেই রেনিটিডিন আর ওমিপ্রাজলকেই চেনে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্ববান ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, বাজারে নিবন্ধিত বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ২২০ ধরনের রেনিটিডিন ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মাত্রার রেনিটিডিন ট্যাবলেট, সিরাপ ও ইনজেকশন। রেনিটিডিন প্রস্তুতকারী প্রায় প্রতিটি ফার্মা কোম্পানিরই বিভিন্ন মাত্রায় এই তিন ধরনের ওষুধই রয়েছে।

এর মধ্যে ৩১টি কোম্পানি ভারতের দু’টি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিনের কাঁচামাল গ্রহণ করলেও অন্যান্য কোম্পানিগুলো সরাসরি তাদের (রেনিটিডিন) কাছ থেকে কাঁচামাল কিনেই ওষুধ প্রস্তুত করতো।

এ বিষয়ে একাধিক ফার্মা কোম্পানির মার্কেটিং কর্মকর্তারা জানান, ওষুধ কোম্পানিগুলো ফ্যাক্টরিতে নতুন করে রেনিটিডিন উৎপাদন করছে না। তবে আগের উৎপাদিত রেনিটিডিনগুলো বাজারে বিক্রি করছে। কেননা এত পরিমাণ ওষুধ নষ্ট করে ফেললে কোম্পানিগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। মূলত যে ওষুধগুলো বাজারে খুব বেশি পরিমাণ বিক্রি হয়, সেই ওষুধগুলো অনেক বেশি পরিমাণে উৎপাদন করা হয়। তাই এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া খুবই কঠিন বিষয়।

একই রকম হিসাব বাজার থেকে ওষুধগুলো আবার ফিরে আনার ক্ষেত্রেও। এই ওষুধগুলো ফিরিয়ে আনতে গেলেও কোম্পানিগুলোর একই রকম ক্ষতি হবে। তবে ধারণা করা যায়, দেশে বিভিন্ন ফার্মা কোম্পানিগুলোতে এখনো যে পরিমাণ রেনিটিডিন উৎপাদিত রয়েছে, সেগুলো দিয়ে বর্তমান বিক্রির হার অনুসারে আরও মাস দেড়েক সময় লাগবে ওষুধের বাজার রেনিটিডিন শূন্য হতে।

তবে ক্রেতা থেকে শুরু করে ওষুধ প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতারা পর্যন্ত সবাই জানেন ওষুধটি শরীরের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) প্রতিবেদন অনুসারে রেনিটিডিনের কাঁচামালে এনডিএম (মেটালো বেটা ল্যাকটামেজ) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এটি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ব্যকটেরিয়া মানবদেহে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে। দূষিত বাতাস থেকে এটি মানবদেহে প্রবেশ করেই মারাত্মক ক্ষতি করে। সেক্ষেত্রে যদি ওষুধের মাধ্যমে সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে যায়, তাহলে ক্যান্সারের ফ্যাক্টর বা সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। এ কারণে ভোক্তাদের নিজ দায়িত্ব থেকেই ওষুধটি কেনা ও সেবন বাদ দেওয়া উচিত। তাই বাজারে থাকলেও রেনিটিডিন না কেনার পরামর্শই দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে রেনিটিডিন কেনার সময় শফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, আমরা জানি ওষুধটিতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এটাতে গ্যাস্ট্রিকের ভালো সমাধান পাওয়া যায়। তাই কিনছি।

এদিকে ফার্মাসিস্টদের মতে, যখন রোগীরা একটি ওষুধ অনেক বিশ্বাস করে খায়, তখন সেটাতে দ্রুত রোগ নির্মূল হয়। কেননা এতে শরীরের প্রয়োজনীয় হরমোন দ্রুত নিঃসরণ হয় এবং ওষুধটি ভালো কাজ করে। যে কারণে রেনিটিডিনে উপকার পাওয়ায় ক্রেতারা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের খবর জেনেও অবলীলায় ওষুধটি গ্রহণ করছে।

-বাংলানিউজ


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।