১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

সবজির ফলন বাম্পার খুশি কৃষকরা দাম পেয়ে

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ৮, ২০১৯

সবজির ফলন বাম্পার খুশি কৃষকরা দাম পেয়ে

কৃষি ডেস্কঃ  চট্টগ্রামের চন্দনাইশে শঙ্খচরে বন্যা পরবর্তী সময়ে চাষ করা আগাম শীতকালীন সবজি মূলার ও শরৎকালীন বরবটির বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে উৎপাদিক সবজির বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে ফুটে উঠেছে খুশির ঝিলিক। এতে  বিগত বন্যার সবজি ক্ষেতের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা শঙ্খনদীর উভয় তীরের ১০ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষকের জীবন-জীবিকা সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত শঙ্খচরের উর্বর ভূমিতে চাষাবাদ করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করেন তারা। কিন্তু গত ৬ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় চাষিদের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে শরৎকালীন সবজি বরবটি ও আগাম শীতকালীন সবজি মূলা চাষাবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন শঙ্খচরের চাষিরা।

সরেজমিনে সবজি ক্ষেত পরিদর্শনের সময় কথা হয় দোহাজারী কিল্লাপাড়া এলাকার কৃষক আবু তাহের, শামছু মিয়া, জসিম উদ্দীনের সঙ্গে। তারা জানান, জুলাই মাসের বন্যায় তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতের সবজি ক্ষেতেই পচে গেছে। বন্যা পরবর্তী সবজি চাষাবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন তারা।  কৃষক আবু তাহের জানান ৪০ শতক জমিতে মূলা চাষ করে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মূলা বিক্রি করেছেন তিনি। সার, বীজ, বালাইনাশক ও শ্রমিক বাবদ তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

আরেক কৃষক জসিম উদ্দিন ৪০ শতক জমিতে মূলা চাষ করে বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। অপর কৃষক সামছুল আলম জানান, ৮০ শতক জমিতে শরৎকালীন সবজি বরবটি চাষ করেছেন তিনি। ৯০ হাজার টাকার মতো খরচ হলেও বিক্রি করেছেন প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বরবটি।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি কাঁচা বাজার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি বরবটি ৩০-৩৫ টাকা, মূলা প্রতিভার (৮০ কেজি) ২৫শ টাকা, বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, শশা ৩০-৩৫ টাকা, তিতা করলা ৪০-৪৫ টাকা, লাউ ২৫-৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০-২৫ টাকা, ঢেড়শ ৪০-৪৫ টাকা, মূলাশাক ও কপিশাক প্রতিভার (৮০ আঁটি) ১২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, ধোপাছড়ি, বৈলতলী, বরমা এবং সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া, কালিয়াইশ, পুরানগড়, ধর্মপুর, নলুয়া, চরতী ও আমিলাইশ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষক সবজি চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

তারা জানান, শঙ্খচরের মাটি উর্বর হওয়ায় এখানে সব ধরনের সবজি চাষ হয়। এই চরে উৎপাদিত বিষমুক্ত বেগুন ও মূলার আলাদা কদর রয়েছে সারা দেশব্যাপী। এছাড়া শিম, ঢেঁড়শ, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, তিত করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের শাক উৎপাদিত হয় এখানে।

শঙ্খচরে উৎপাদিত সবজি গুণেমানে ও স্বাদে ভালো হওয়ায় ভোজন রসিকদের কাছে এখানকার সবজির চাহিদা বেশি। কৃষকরা ভ্যান, রিক্সা, ট্রলি, নৌকা  ও ইঞ্জিন চালিত বোটে করে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বাজারে নিয়ে আসেন সবজি বিক্রির জন্য। শঙ্খচরের সবজির ওপর ভিত্তি করে দোহাজারী পৌরসভার পাশাপাশি সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়ার বোমাং হাট ও ছদাহার শিশুতলে নিয়মিত পাইকারি সবজি বাজার বসে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব বাজার থেকে সবজি সংগ্রহ করে ট্রাকযোগে আশপাশের এলাকা ও চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ সারেদেশে সরবরাহ করেন।

তবে সবজি সংরক্ষণের জন্য চন্দনাইশ কিংবা সাতকানিয়ায়  হিমাগার না থাকায় সবজি চাষীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা দাবি জানিয়ে আসলেও হিমাগার নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে পাইকারদের বেঁধে দেওয়া দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকরা।

এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চন্দনাইশে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষাবাদ হয়। আগাম শীতকালীন শাক-সবজি রোপণ কেবল শুরু হয়েছে। ফুলকপি, বাধাকপি ও টমেটোর চারা তৈরি করা হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ সহায়তা দেওয়ার কারণে আশানুরূপ ফলন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দোহাজারী ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ৬ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনের বন্যার কারনে শঙ্খচরের ৮শ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি মূলা ও শরৎকালীন বরবটির বাম্পার ফলন হয়েছে শঙ্খচরে। ভালো দাম পেয়ে কৃষকেরাও খুশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরো ভালো ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।