২০, অক্টোবর, ২০১৯, রোববার | | ২০ সফর ১৪৪১

প্রতারক মাসুদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত জীবননগরে যুবকরা!

প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ , অক্টোবর ৯, ২০১৯

প্রতারক মাসুদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত জীবননগরে যুবকরা!
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: দালাল বা আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে প্রতি নিয়ত সর্বশান্ত হচ্ছে শহর- গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার সাধারন বেকার যুবক।প্রতারক দালালদের কাছে এযেন নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার
আদম ব্যবসায়ী প্রতারক মাসুদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দিলে বিদেশে মিলবে ভালো বেতন ও ভালো চাকরী। এই রকম প্রলোভন দেখিয়ে উপজেলার বহু বেকার যুবকের পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা  হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মাসুদের বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলেও প্রশাসন যেন নিরব ভুমিকা পালন করছে। আর একারনে অসহায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কোনো বিচার না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পাড় করছে। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ইরাকে পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা বসুতিপাড়ার মমিন উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা নামে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি জীবননগর পৌর শহরের হাইস্কুল পাড়ার আজাদ হোসেনের ছেলে আকমল সাঈদকে ইরাকে ভালো কাজ দেওয়ার নাম করে তার নিকট থেকে ৪লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় মাসুদ রানা। পরবর্তীতে তাকে ইরাকে পাঠানো হলেও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত্রে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তাকে দুই মাস কোন কাজকর্ম না দিয়ে এক স্থানে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে একটি ইরাকের নাসরিয়ার হাব্বুবি শহরের রেস্টুরেন্ট এম ক্যাফেতে দালাল মারফৎ কাজ প্রদান করে মাসুদের সেদেশের সহযোগীরা। সেখানে কাজ করা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট তারিখে ভুয়া অয়ার্ক পারমিটে কাজ করার পরাধেদ ইরাকের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে পুলিশ আটক করে। পরে সেই দেশের আইন অনুযায়ী চার মাসার সাজা ভোগ করছে আকমল।
এদিকে আকমল সাঈরে বাবা আজাদ হোসেন বাদি হয়ে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে গত ৫ই সেপ্টম্বর জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের   করে, যার মামলা নং-৪।
আকমল সাঈদের বাবা আজাদ অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে মাসুদ রানা তাকে ইরাকে ভালো কাজ আর মোটা অংকের বেতন দেওয়ার কথা বলে আমার নিকট থেকে ৪লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। আমার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে মাসুদের কাছে টাকা দিয়। কিন্তু সে আমার ছেলেকে ইরাকে পাঠালেও তার কোন কাজ দেয়নি বরং তাকে দুই মাস যাবৎ একটি স্থানে আটকে রাখে।
পরবর্তীতে ইরাকের একটি রেস্টুরেন্টে কাজের ব্যাবস্থা করে দালালের মাধ্যমে। আমার ছে যখন ওই রেস্টুরেন্টে কাজ নাকরে দেশে ফেরার কথা বলে। তখন রেস্টুরেন্ট মালিক বলে তোকে আমরা ৫০০ হাজার ডলারের বিনময়ে কিনেছি। এই টাকা পরিষোধ না করে তুই দেশে ফিরতে পারবি না।
রেস্টুরেন্টে কাজকরা কালীন আমার ছেলেকে অবৈধ ভাবে কাজ করার অপরাধে ইরাকের ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে। আমি আমার ছেলে এবং টাকা ফেরৎ চাইলে মাসুদ প্রথমে আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সমঝোতা করলেও জীবননগরের কথিত এক সাংবাদিকের কথায় বিভিন্ন ভাবে আমাকে হুমকি ধামকি দেয়। বর্তমানে আমারা সঙ্কায় দিন পার করছি।
তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু আকমল সাঈদই নয়, মাসুদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বকুলের ছেলে সোহেল ও আরিফ।
জানা গেছে, মাসুদ রানা ও তার বাবা মমিন উদ্দিন এবং স্থানীয় এক ভুয়া সাংবাদিক ক্রাইম রিপোটার পরিচায় প্রনকারীর মাধ্যমে এলাকার বেশ কিছু বেকার যুবকরে বিদেশে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজে আলীশান বাড়ি আর আলীসান জীবন-যাপন করলেও, মানবতা ও হতাশার মধ্যে জীবন-যাপন করছেন বেকার যুবকরা।
এমন কি নিঃশ্ব হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া সুত্র জানায়, মাসুদ রানা ইরাক থেকে এক ব্যাবসায়ীর বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশে চলে এসেছে।
আকমল সাঈদের ব্যাপারে ইরাকে একই অভিযোগ থেকে আটক হয়ে সাজা খেটে দেশে ফিরে আসা বক্তিয়ার রহমান বলেন, ইরাকে অবৈধ ভাবে কাজ করার অপরাধে আমাদেরকে আটক করা হয়। আমিও সাজা খেটেছি। সেদেশের আইন অনুযায়ী আকমল সাজা খাটছে।
বক্তিয়ার আরও বলেন, মাসুদ ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আমাদের ইরাকে নিয়ে যায়। আমাদের যে ভিসা দেয় পরে আমরা জানতে পেরেছি সেই ভিসায় ইরাকে কাজ করার কোনো বৈধতা নেই। তাছাড়া ইরাকে আমাদের যে ওয়ার্ক পারমিট দেয়া হয়েছে সেটাও ভুয়া। আমি মাসুদের শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, আমি বিদেশে পাঠানেরা নাম করে যে টাকা নিয়েছি তা ঠিক। তাদের তো ইরাকে পাঠিয়েছি তবে সাময়িক সমস্যা হয়েছে তা সমাধান করেছি। ভুয়া কাগজ পত্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাসুদ কোনো সদুত্তর না দিয়ে উলটো দাম্ভিকতার সাথে বলেন, পারলে কিছু করে নিতে বইলেন।
উথলী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার নাম করে টাকা আত্বস্বাতের একাধীক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিচারের দিন এলেই সে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তা ছাড়া সে বেশ কিছু ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু ছেলে বাড়িতে চলে এসেছে আর কিছু ছেলে নাকি আটক হয়েছে।
জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একটা মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি। ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে আমরা তাকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।