২০, অক্টোবর, ২০১৯, রোববার | | ২০ সফর ১৪৪১

স্লোগানে স্লোগানে ‍উত্তাল ক্যাম্পাস, ফের ভিসিকে আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ৯, ২০১৯

স্লোগানে স্লোগানে ‍উত্তাল ক্যাম্পাস, ফের ভিসিকে আল্টিমেটাম

সিএনআই ডেস্ক: সম্প্রতি বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাসহ নানা বিষয়ে জবাবদিহি করতে বুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামকে দুপুর ২টায় ক্যাম্পাসে হাজির হওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তা না-হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে বুয়েটের সাধারণ ছাত্রদের পক্ষ থেকে দেয়া একটি বিবৃতিতে এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেছেন? এ ছাড়া সেসময় তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তাই তাকে আজ আবার ক্যাম্পাসে এসে দুপুর ২টার মধ্যে এসব বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

তারা আট দফা দাবিতে সোমবার থেকে আন্দোলনে নামেন। তা হলো- আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা, আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে এবং ভিন্নমত দমানোর নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা, ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরও ভিসি কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি তা মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাব দেয়া (উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিসি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার ভবনের সামনে দেখা করেন), আবরার হত্যা মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করা, এর আগের ঘটনাগুলোর বিচার করা, ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করা এবং বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা।

রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়ে থাকতে পারে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর ফলেই রক্তক্ষরণ বা পেইনের (ব্যথা) কারণে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ফাহাদের হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে ভোঁতা কোনো জিনিস যেমন- বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে তার মাথায় কোনো আঘাত নেই। কপালে ছোট একটি কাটা চিহ্ন রয়েছে।

পরে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন চকবাজার থানায়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।