১৬, নভেম্বর, ২০১৯, শনিবার | | ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

অন্ধত্বকে জয় করেছেন অতুল

প্রকাশিত: ১২:৪২ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১৭, ২০১৯

অন্ধত্বকে জয় করেছেন অতুল

ফিচার ডেস্ক: দু-চোখের আলো ছাড়াই অভাবী পিতা-মাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন অতুল মোহন্ত (৫০)। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পৌর এলাকার গড়চৈতন্যপুর কামারবাড়ির মৃত অনন্ত মোহন্তের ছেলে তিনি।

পৃথিবীর আলোহীন জন্মান্ধ অতুল যুবক হলে তাকে বিয়ে করায় পরিবারের লোকজন। গরীব বাবার সহায়তায় মানুষের সাহার্য নিয়ে কোনওমতে সংসারধর্ম চালাতে থাকেন অতুল। একমাত্র ছেলে সন্তানের জনক অতুল যখন তার আলোহীন জীবনে দিশেহারা, তখন তিনি চেষ্টা করতে থাকেন নিজে কিছু কর্ম করার।

বাড়ির পাশের কামারশালায় গনগনে আগুনে লাল হওয়া লোহায় কামারের সহযোগী হিসেবে বড় হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে চেষ্টা করেন অতুল, একসময় তিনি সফল হন। দুই চোখে দৃষ্টিহীন অতুল এখন নিয়মিত কামারশালায় হাতুড়ি চালান।
এছাড়াও তিনি নিশানামতো গৃহস্থবাড়িতে কাঁচি দিয়ে গবাদি পশুর খড় কাটতে পারেন, কুড়াল দিয়ে ঠিকমতো চিড়তে পারেন খড়ি। এ সবকিছুই তিনি একজন সুস্থ মানুষের মতো করেন।

শনিবার সকালে খড় কাটার সময় অতুলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ‘অভাবের সংসার, তাই অন্ধ হলেও কাজ করার চেষ্টা করি। যেদিন কাজের জন্য কেউ ডাকে সেদিন কাজ করে ১৫০/২০০ টাকা উপার্জন করি। প্রতিদিন কাজ পাই না। সরকারিভাবে দেওয়া প্রতিবন্ধী ভাতা এবং আমার উপার্জনে আমার সংসার চলে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম জানান, ‘অত্যন্ত দরিদ্রতার মধ্যে অতুল মোহন্ত জীবনযাপন করছেন। অন্ধত্বকে জয় করে কাজের মাধ্যমে তিনি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। আশাকরি, এরকম একজন উদাহরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তির জন্য সহায়তার হাত প্রসারিত করবেন সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল।’

স্থানীয় সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ওয়াছিয়া আকতার রুনা জানান, ‘অন্ধ হলেও কাজের প্রতি খুবই আন্তরিক অতুল মোহন্ত। অনুকরণীয় এ রকম মানুষগুলোকে তুলে ধরা এবং সহায়তা করা প্রয়োজন।- বিডি প্রতিদিন


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।