১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

দিনাজপুরের বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ২৪, ২০১৯

দিনাজপুরের বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি

দিনাজপুর প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রভাব বরাবরই বেশি থাকে তাই শীতকালীর সবজি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানান আগাম শীতকালীন সবজি, আগাম শীতকালীন সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এরই মধ্যে অনেকেই বিক্রি করেছেন ক্ষেতের সবজি, দামও বেশ ভালো পেয়েছেন। খরচের তুলনায় লাভ অনেক বেশি হওয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এ এলাকার কৃষকদের।

ফলে প্রতি বছরই চাষিরা ঝুঁকছেন আগাম সবজি চাষের দিকে। দিগন্তজুড়ে সবুজের সমারোহ আর কৃষকের মনের সবুজ স্বপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করে উৎপাদিত শীতকালীন আগাম সবজি হাট-বাজার গুলোতে উঠতে শুরু করায় কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। আর এসব সবজি কিনতে ফুলবাড়ীর বাজারে ভিড় করেছেন জেলা শহরগুলোর পাইকাররাসহ স্থানীয়রা।

প্রতিদিন এ উপজেলার সবজি যাচ্ছে বিভিন্ন হাট বাজারে। আগাম শীত কালীন সবজি চাষ করে বাজারে বিক্রি করে কৃষকও বেশ ভাল দাম পাচ্ছেন। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সেইসাথে কাকডাকা ভোর থেকে জমে উঠেছে এই আগাম শীতকালীন সবজির বাজার। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,এবছর মোট ৩৫০হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সবজি চাষ হয়েছে যা থেকে ফলন হবে প্রায় ৮.৫০ মেট্রিক টন সবজি।

এদিকে ফুলবাড়ী পাইকারী সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে , ভোর থেকে শত শত কৃষক তাদের উৎপাদিত আগাম জাতের শাকসবজি নিয়ে বাজারে বিক্রি করার জন্য আসছেন। কেউ এনেছেন লাউ, কেউ বরবটি, শিম, করলা, লাল শাক, মুলা, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাধাঁকপিসহ শীতকালীন আগাম শাক সবজি। আর বিভিন্ন এলাকা থেকে শাকসবজি কেনার জন্য বাজারে ভিড় করছেন সাধারণ ভোক্তাসহ পাইকাররা। এখানকার সবজি গুণে মানে ভালো হওয়ায় সারাদেশে এই সবজির চাহিদা রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু করে এই সবজির বাজার চলে ১০টা পর্যন্ত। এরপর ভ্যান বোঝাই করে সবজি চলে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় বাজারগুলোতে ।

পৌর বাজারের পাইকারী আড়ৎগুলোতে ফুলকপি ৩০ টাকা, মূলা ২০ টাকা, পেঁপে ১৫টাকা,বাঁধাকপি ৩০টাকা, প্রতি পিস লাউ ২০-৩০ টাকা। ধনিয়া পাতা কেজি প্রতি ৮০-১০০ টাকা, শিম ৮০ টাকা,টমেটো ১২০ টাকা,গাজর ১২০ টাকা,বরবটি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, মিষ্টি লাউ ৫০-৬০ টাকা, লাল শাক ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলেই জানালেন খুচরা ও পাইকারী ক্রেতারা।

এসময় কথা হয় ফুলবাড়ী বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহাজামালের সাথে তিনি বলেন,আগাম শীতকালিন সবজি বাজারে উঠার কারনে ক্রেতারা নতুন সবজি পেয়ে সাচ্ছন্দের সাথে নতুন সবজি কিনছে,তাই চাহিদাও রয়েছে বেশ। সবজির দামও কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

কৃষ্ণপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন,আমি দেড় বিঘা জমিতে মূলা চাষ করেছি। আগাম চাষ করা সবজিগুলো বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছি তাই বেশ ভালো লাগছে। একই কথা জানান,শহিদুল ইসলাম তিনি দুই বিঘা জমিতে বাঁধাকপির ১২ হাজার চারা রোপণ করেছিলেন,দুই সপ্তাহ আগে থেকে বিক্রিও শুরু করেছেন । তবে দুই বিঘা জমিতে তার খরচ ৬০ হাজার টাকা হলেও তিনি কমপক্ষে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করবেন এমনটাই আশা করছেন তিনি।

একই ভাবে কৃষক মোজাফ্ফর রহমান জানালেন তিনি আড়াই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন,আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভাল ফলনও হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক বেশী দামে (১৬০০ টাকা মণ দরে) কপি বিক্রি করতে পেরে সবজি চাষে আগ্রহ বেড়েছে তার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ জানান,আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এই এলাকার কৃষক আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছেন। তিনি আরও বলেন সবজি ক্ষেতে যাতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করেই ফলন বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়েও সার্বক্ষণিক উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চালীদেরকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।