১৫, নভেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

শিক্ষকদের বেতন দিতে গেলে টাকা নাই!

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ২৪, ২০১৯

শিক্ষকদের বেতন দিতে গেলে টাকা নাই!

সিএনআই ডেস্ক: আমরা সবাই ক্রিকেটারদের প্রতি বিসিবির অবহেলার কথা বলছি। আপনারা কি জানেন রাষ্ট্রের সবচেয়ে অবহেলিত কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কারা? জানি, বলতে পারবেন না। তারা হলেন আমাদের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা। গতকাল সকাল ৭.৩০ টার সময় কার্জন হলে ঢুকার পথে দেখি গেইটে পুলিশ ও জটলা। গেইট বন্ধ। দারোয়ান আমাকে দেখে গেইট খুলে দিল। ভিতরে ঢুকেই দেখি ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বের অনেক মানুষ। তারা যত্রতত্র ঘুরাঘুরি ছোটাছুটি করছে। সবার হাতেই ছোটখাটো হ্যান্ডব্যাগ। দেখেই বোঝা যায় উনারা ঢাকা শহরের বাহির থেকে এসেছেন। তখনো জানিনা উনারাই আমাদের হিরো। আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের প্রথম ফর্মাল শিক্ষক।

বিকেলে বাসায় পৌঁছে জানতে পেরেছি উনারা ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। একটু বেতন বৃদ্ধি আরেকটু সম্মান বৃদ্ধির আশায় শহীদ মিনারে দাবি জানাতে এসেছিলেন। কিন্তু সরকার নির্দেশে রাষ্ট্রের পুলিশ তাদের দাঁড়াতেই দেয়নি। শুনেছি তাদের নাকি লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। পুলিশের এহেন মারমুখী আচরণে বেচারা শিক্ষকরা দুঃখের কথা তাদের দাবির কথা জানাতে পারেনি। কি অমানবিক! দাবি জানানোর জন্য জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত শহীদমিনার। সেখানেও তারা নিরাপদ না। এই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকছাত্রসহ মিডিয়ার কেউ তাদের পাশে দাঁড়ালো না। এটা বড়ই মর্মান্তিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রাইমারি স্কুল শিক্ষকদের লাঠিপেটার প্রতিবাদ জানানো উচিত।

ভাবতে পারেন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মর্যাদা হলো দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা। আর সাধারণ শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণীর। আপনার, আমার আমাদের সকলের আদরের সোনামণিদের যাদের কাছে পাঠাই তারা যদি এইরকম অসম্মানিত জীবন যাপন করেন কি করে তারা আমাদের সোনামণিদের ভালো পড়াবেন? এই রাষ্ট্রেরতো টাকার অভাব দেখি না? রাস্তার হকার থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে দেখছি। ঘুষ, চুরি, দুর্নীতির জন্য টাকার অভাব নেই। অথচ শিক্ষকদের বেতন দিতে গেলে টাকা নাই টাকা নাই শুনতে হয়। শিশুদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ phase যাদের দায়িত্বে দেই তাদের কাপড় চোপড় দেখতে শুনতে যেমন দেখলাম তাতে চোখে জল আটকে রাখা কঠিন।

মনে আছে যমুনা সেতু তৈরি করার সময় রাষ্ট্রের সকল সার্ভিসের সাথে সারচার্জ যোগ করা হয়েছিল। যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য জনগণের কাছ থেকে সারচার্জের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করেছিল। আমার মতে সকল লাক্সারিয়াস পণ্যে এবং ইনকাম ট্যাক্সের সাথে শিক্ষার জন্য স্পেশাল সারচার্জ আরোপ করে অর্জিত টাকা শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা জরুরি। যেকোনো উপায়েই হউক শিক্ষায় জিডিপির নূন্যতম ৫.৫% বরাদ্দ খুব জরুরি। আর সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যারা আছেন তারা দয়া করে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করুন। এটাকে কেবল একটি চাকুরী মনে না করে সেবা দান মনে করুন।

(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।