১৩, নভেম্বর, ২০১৯, বুধবার | | ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে অসৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সম্মান থেকে বিরত রেখেছে, দাবি দ্বিতীয় স্ত্রীর

প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ৫, ২০১৯

দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে অসৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সম্মান থেকে বিরত রেখেছে, দাবি দ্বিতীয় স্ত্রীর

দিনাজপুর প্রতিনিধি: স্বামী সাথে সব সময় সঙ্গে থেকেও চিঠি লিখে যাওয়া ও রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার গ্রহণ না করার বিষয়ে কিছুই জানতেন না দিনাজপুরের সেই মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ ইসমাইল হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনা বেগম। তিনি দাবী করেছেন প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তানেরা কোন ভাবেই তাকে হুইপ, বিভাগীয় কমিশনার এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কারো সামনে যেতে দেননি। এ সময় তাকে ঘরের ভিতর আটকে রাখা হয় ।

সোমবার দুপুরে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম ও তার দুই সন্তান বোচাগঞ্জ উপজেলায় ডাকবাংলোতে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী করেন।

জানা যায়, সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের বরাবরে একটি চিঠি লিখে যান। যাতে তিনি লিখেন জীবণ মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হঠাৎ যদি আমার মৃত্যু হয়, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করা হয়। কারণ এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি যারা আমার ছেলেকে চাকুরীচ্যুত, বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে, তাদের সালাম/ স্যালুট আমার শেষ যাত্রার কফিনে আমি চাইনা । ভূল ত্রæটি ক্ষমা করিও।

এই চিঠি লিখার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু বরণ করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইসমাইল হোসেন। এরপর ২৪ আগষ্ট বৃহস্পতিবার চিঠিতে লিখে যাওয়া ওছিয়ত অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা(গার্ড অফ অনার) ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয় মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইসমাইল হোসেনের । এ নিয়ে ২৪ আগষ্ট বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে দিনই বিভাগীয় কমিশনার মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়া দাফনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ২৬ অক্টোবর তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন তদন্তে আসেন।

২৭ অক্টোবর সদরের এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) আরিফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার মহসেন উদ্দিনকে দিনাজপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসককে ওএসডি করার দাবী জানায় । অন্যথায় মুত্তিযোদ্ধারাও গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন না বলে হুশিয়ারী দেন।

মৃত্যুর ১২ দিনের মাথায় মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম ও তার দুই সন্তান ১০ম শ্রেণীল ছাত্র মুসাদ্দেক হোসেন ও ৭ম শ্রেণীল ছাত্র মিম হোসেন বোচাগঞ্জ উপজেলার ডাক বাংলায় সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় স্ত্রীমোছাঃ মর্জিনা বেগম জানান, তার স্বামী এজমা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত ২১ অক্টোবর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভতি করা হয়। চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সে সময় তিনি ও দুই সন্তান সার্বক্ষণিক সঙ্গে ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর পক্ষের সন্তানেরা হাসপাতালে পর্যন্ত তারা খোঁজ খবর নেয়নি । কিন্তু চিঠি লিখে যাওয়া ও রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার গ্রহণ না করার বিষয়ে কিছুই শুনেননি বা দেখেননি। মৃত্যুর পর এ সব জেনেছেন। তিনি দাবী করেছেন প্রথম স্ত্রীর পক্ষের সন্তানেরা কোন ভাবেই তাকে হুইপ, বিভাগীয় কমিশনার এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কারো সামনে যেতে দেননি। এ সময় তাকে অন্য বাড়ীর ঘরের ভিতর আটক করে রাখা হয় ।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন,কেউ অসৎ উদ্দ্যেশে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ ইসমাইল হোসেনকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার থেকে বি ত করেছেন। এ বিষয়ে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধার ভাতায় ও অন্যের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। স্বামী না থাকায় মানবেতর জীবণ যাপন করছেন। ভাড়া বাসায় অধ্যাহারে অনাহারে দুই সন্তান নিয়ে রয়েছেন। তাকে স্বামীর প্রাপ্য মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা থেকে বি ত করা হতে পারে বলে দাবী করেন।

দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর বড় ছেলে সেতাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেনীর ছাত্র মুসাদ্দেক হোসেন , ছোট ছেলে সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মিম হোসেন, স্ত্রী মর্জিনা বেগমের পিতা মোঃ মাজেদুর রহমান, বর্তমানে মর্জিনা বেগম যে বাসায় ভাড়া থাকেন সেই বাড়ীর মালিক মোছাঃ রহিমা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপরে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ ইসমাইল হোসেনের বড় ছেলে নুরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ গুলোর পুরপুরি মিথ্যা। কেউ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহীত করার জন্য এ কাজ গুলো করাচ্ছেন। আমি বড় ছেলে হিসেবে আমার ছোট মাকে সব ধরণের সহযোগীতা দিয়ে এসেছি এবং তার অধিকার তাকে বুঝে দেয়া হবে। আমি ওয়ারিশন সনদ তোরার জন্য আমার ছোট মায়ের কাছে গিয়েছিলাম।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।