১৯, নভেম্বর, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

যুবকই হবে আগামীর যুবসম্পদ

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৫, ২০১৯

যুবকই হবে আগামীর যুবসম্পদ

মতামত ডেস্ক: জাতীয় যুব দিবস আজ। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “দক্ষ যুব গড়ছে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ওই দিবস। প্রকৃতপক্ষে যুবকরাই একটি দেশের জনগোষ্ঠীর মূল সম্পদ।

সাধারণত ১৮ থেকে ৩৫ বা ৪০ বছর বয়সী মানুষদের যুবক বলে গণ্য করা হয়। শারীরিক কারণে হয়তো এর তারতম্য হতে পারে তবে মোটামুটি এর আশেপাশে থাকে যুবক হবার বয়স।

একজন যুবক একটি দেশের পূর্ণ নাগরিক। একজন যুবক কিংবা যুবতী বিবাহের উপযোগী হয়। প্রত্যেক ধর্মই যুবক বয়সে ধর্মীয় আইন কানুন মানাকে গুরুত্ব প্রদান করে।

কথায় কথায় আমরা বলতে শুনি “যুবসম্পদ” এই যুবসম্পদ কথাটা আসলে কী? কীভাবে যুবকরা সম্পদে পরিণত হতে পারে। বস্তুত কোনো দেশ হোক, পরিবার হোক কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান। সকল কিছুরই মূল কার্যনির্বাহী ব্যক্তি যুবকরাই। যুবকদেরই সব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হয়। শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণতা এর প্রধান কারণ। একটা মানুষের শরীর, মেধা সকল কিছু সর্বাধিক কাজ করে থাকে যুবক বয়সে। তাই যুবকদের যখন সঠিক কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় তখন যুবকরা হয়ে ওঠে যুবসম্পদ।

কিন্তু এই যুবকরাই আবার হয়ে ওঠে ধ্বংসের কারণ। খুব নিখুঁতভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়। যে কোনো মানুষ-প্রতিষ্ঠান হোক না কেন যুবকদের ওপর ভর করেই উপরে উঠতে চায়। নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে যুবকদের। পৃথিবীর সফল দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা যুবকদের সম্পদে পরিণত করতে পেরেছে। কিন্তু আমাদের দেশে যুবসমাজ দিন দিন খারাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কারও অপরাজনীতির বলি হতে হচ্ছে যুবকদেরই। মাদক-জুয়ার আখড়া তৈরি করছে যুবসমাজই। দেশে খুন, হত্যা, সন্ত্রাস এই সকল কিছুর জন্যই দ্বায়ী যুবকরাই। প্রবীণরা তাদের কাজের সুবিধার জন্যই যুবকদের দিয়ে করাচ্ছে হয়তো। কিন্তু দিন শেষে শাস্তিও পাচ্ছে যুবকরাই। এই গল্প শুধু পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নারীদের ক্ষেত্রেও একই সবকিছু। একজন নারীও তার যুবতী বয়সে জড়িয়ে পড়তে পারে নানান ধরনের খারাপ কাজে। অপরাজনীতি, মাদক, সুদ, ঘুষ সহ সকল ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে যাদের দাঁড়িয়ে কথা বলা উচিত তারাই এসব কাজে জড়িত। শর্ষের মধ্যেই লেগে গেছে ভূত। এখন আর কীভাবে এর সমাধান হবে?

তবে আমাদের এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। নিজেদের যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে সঠিক পথে। যুবকদের কর্মমুখী করতে হবে। লেখাপড়ার মাধ্যমে কার্যকরী করে তুলতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষা চালু করতে হবে যুবকদের জন্য। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে হবে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ। যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে নিরলস কাজ করতে হবে। খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে যুবসমাজকে। যুবসমাজের মধ্যেও আনতে হবে মানসিক পরিবর্তন। বয়োজ্যেষ্ঠদের সঠিক সম্মান দিতে হবে। নারী-পুরুষের ভেদাভেদ ভুলে কাজ করতে হবে।

বিশ্ব যে সকল দেশ এগিয়ে গেছে তাদের মধ্যে আমেরিকা, জাপান, চীন অন্যতম। তারা তাদের যুবসমাজকে সম্পদে পরিণত করতে পেরেছে। তারা শিশু অবস্থায়ই জীবন গঠনের শিক্ষা দিয়েছে। যাতে করে যুবক অবস্থায় নিজেকে সঠিক ভাবে মেলে ধরতে পারে। তাই যুবকদের উন্নতির কাজ করতে হবে শিশু অবস্থায়ই। শুধু খেলাধুলা নয় প্রযুক্তি, রাজনীতি সকল ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাবে যুবসমাজ। যারা যুবকদের নিয়ে কাজ করছে তাদেরও করে দিতে হবে একটি নিরাপদ প্লাটফর্ম। যুব দিবসের মূল চেতনা থাকুক যুবক হবে যুবসম্পদ।

লেখক : মাহবুব নাহিদ


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।