৯, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

পিয়নের সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সেই কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৫, ২০১৯

পিয়নের সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সেই কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সিএনআই ডেস্ক: অফিস পিয়নের সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফাস হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সেই কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসে এসে তদন্ত শুরু করেন। এ সময় অভিযুক্ত সেই জয়নাল ও নারী কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার ড. গোলাম মোস্তফা, সদস্য অতিরিক্ত উপ পরিচালক মোঃ মুরাদুল হাসান ও সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল গাফ্ফার।

তদন্ত কমিটির প্রধান ড. গোলাম মোস্তফা জানান, বিষয়টি তদন্ত করছি । আমরা ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করব। তবে তদন্তের স্বার্থে সময় বাড়তে পারে। তদন্ত কমিটি ভিডিও ফুটেজ দেখেন এবং দুই জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কমিটি প্রথমে সাধারণ চিন্তা করেছিল যে একদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করবে।কিন্তু বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সময় বাড়াতে চায় তারা।

জামালপুরের সাবেক ডিসির নারী কেলেংকারীর রেশ কাটতে না কাটতেই নারায়ণগঞ্জে বন্দরে সরকারি অফিসে এক কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকান্ডের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে ওই অফিসের এক নারী অফিস সহায়কের (পিয়ন) ঘনিষ্ট অবস্থার সিসিটিভির ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই জয়নাল আবেদীনকে অন্যত্র বদলী করার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পত্র নং ১২.১৮.৮৭০৬.০৩৯.০৪১.১২/৪৬৪ নং স্বারকে জয়নালের অনৈক কর্মকাণ্ডের কথা কিছুটা উল্লেখ করে জেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

বন্দর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরইমধ্যে জয়নাল আবেদীনকে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনা স্বীকার করে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি ভুল করেছি। শয়তানের প্ররোচনায় আমি ভুল করেছি। আমি এ ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। ওই নারী পিয়ন বলেন, ‘জয়নাল সাহেব আমার ঊর্ধ্বতন অফিসার। তিনি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ করেছেন। চাকরির ভয়ে আমি চুপ ছিলাম।’

বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা জানান, ‘আমি সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তার নির্দেশে অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়টি জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।