১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

হল ছাড়ার নির্দেশ মানছেন না শিক্ষার্থীরা, ৩শ’ পুলিশ সদস্য চেয়ে আবেদন

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৫, ২০১৯

হল ছাড়ার নির্দেশ মানছেন না শিক্ষার্থীরা, ৩শ’ পুলিশ সদস্য চেয়ে আবেদন

শিক্ষা ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই অস্থিতিশীল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ। এ অবস্থার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার পরই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু, শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগের করার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা না মেনে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ থাকলেও হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য ৩০০ পুলিশ সদস্য চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে।

 

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে, অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করায় ছাত্রলীগকে অভিনন্দন জানিয়ে একে গণঅভ্যুত্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।

 

সোমবার রাত থেকে ভিসির বাসভবনে সামনে অবস্থান করছিল আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে, আজ মঙ্গলবার ভিসিপন্থী শিক্ষকরা একটি মিছিল নিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে যায়। তখন, তারা জানান ভিসিকে অবরোধমুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান পরে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখান হাজির হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

আন্দোলনকারী বা ভিসির বাসভবনের সামনে শিবির আছে দাবি করে তাদের সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়। এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজনকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে কয়কেজন আহত হয়।

 

আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা বিষয়ে অভিযোগ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের মুখপাত্র অধ্যাপক রাইয়ান রাইন বলেন, ‘আমাদের এ শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে তারা হামলা করেছে কয়েকজনকে পিটিয়েছে। তাদের পদদলিত করা হয়েছে।’ আন্দোলনকারীদের পেটানোর সময় ভিসিপন্থী শিক্ষকরা রক্ত বের না হওয়া পর্যন্ত মারধর চালিয়ে যেতে বলেও অভিযোগ করেন অধ্যাপক রাইয়ান রাইন।

 

এর কিছুক্ষণ পরেই উপাচার্য বাসা থেকে বের হয়ে শিক্ষকসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার কার্যালয়ে যান। পরে, সংবাদ সম্মেলনে ভিসি ফারজানা ইসলাম জানান, কয়েকজন ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করেছে। জামায়াত-শিবিরপন্থী শিক্ষকদের সহায়তায় আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আরও বলেন, আপনারা শুধু শারীরিক আঘাতকেই শুধু আঘাত মনে করেছেন, একটি সভ্য দেশে অশালীন কথাবার্তা, অশালীন চিত্রাঙ্কন এগুলো কি আপনারা দেখতে পান না। মাত্র ২৫ জনের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় কেন বন্ধ করবে? তারা কি কোনো প্রমাণ দিতে পেরেছে, কোনো তদন্ত হয়েছে তাহলে কেন একজন নিরাপরাধ মানুষকে অপরাধী বলা হবে?’

 

কোন প্রমাণ ছাড়া ২৫ থেকে ৩০ জনের দাবিতে তিনি পদত্যাগ করবেন না বলেও জানান ফারজানা ইসলাম। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করায় ছাত্রলীগকে অভিনন্দনও জানান ভিসি। ছাত্রলীগের দাবি, তারা কারোর ওপর হামলা করেননি। পরে, জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বিকেল সাড়ে ৫টার হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে, হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।