১৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্তি হয়নি বিলকিসের

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৬, ২০১৯

১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্তি হয়নি বিলকিসের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ বিধির তোয়াক্কা না করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক বিলকিস বেগমকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে ফলে ১১ বছরেও এমপিওভুক্তির আশা পূরণ হলো না প্রভাষক বিলকিস বেগমের। চাকুরি হারিয়ে মানবিক জীবন যাপন করছেন ভূক্তভোগী সেই নারী প্রভাষক। কলেজ প্রতিষ্ঠাতার একক সিদ্ধান্তেই এমন ঘটনায় অব্যাহতি পাওয়া বিলকিস বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

সস্প্রতি কলেজটি এমপিওভুক্তির তালিকায় নাম আসার সাথে সাথেই এমন ঘটনায় হতাশ সচেতন সমাজ। তবে অব্যাহতির বিষয়ে কোন নিয়ম নীতি না মানার বিষয়টি স্বীকার করেছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন আ.ফ.ম আনোয়ারুল হক।

জানা যায়, কুমিল্লা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে আশুগঞ্জ উপজেলার কামাউরা এলাকায় তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজটি ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। এসময় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত ও যথাযথ নিয়মে অন্যান্য প্রভাষকদের সাথে বিলকিস বেগম আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে কলেজটি এমপিওভুক্ত করণের লক্ষ্যে পুণরায় ২০১৩ সনে এসব শিক্ষকদের আবারো সরকারি নিয়োগ বিধি অনুসারে স্ব-স্ব পদে নিয়োগ প্রদান করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজটি বর্তমানে এমপিও ভুক্তির তালিকায় রয়েছে। এমপিও ভুক্তির তালিকা আসার পর-পরই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ারুল হকের নির্দেশে অধ্যক্ষ হাজিরা খাতায় আইসিটি প্রভাষক বিলকিস বেগমের নাম খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে লিখে এবং তাকে নানা ভাবে হয়রানি করাসহ এমপিওভুক্ত করা হবেনা বলে মৌখিকভাবে জানানো হয়। বিলকিস বেগম এ বিষয়টির প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি তিনি প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন। এতে সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে ৩১ অক্টোবর কলেজের পরিচালনা কমিটির সভায় সভাপতির একক ক্ষমতায় তাকে চাকুরি হতে অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২ নভেম্বর সভাপতির একক স্বাক্ষরে তাকে অব্যাহতিপত্র প্রদান করে। অব্যাহতি পত্রে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগ আনা হলেও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের কোন বরাত দেয়া হয়নি।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী প্রভাষক বিলকিস বেগম বলেন, ১১ বছর এমপিওভুক্তির আশায় নামেমাত্র বেতনে শিক্ষকতা করে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই একদিনের নোটিশে চাকুরি থেকে আমাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অধিদপ্তর কে অবহিত করেছি। আইন ও বিধি মোতাবেক আমি ন্যায় বিচার কামনা করি। এব্যাপারে কলেজের গভর্ণিং বডির একাধিক সদস্য বলেন, আমরা বিষয়টি মানবিক দিক দিয়ে দেখার অনুরোধ করলেও সভাপতি তা শুনেনি।

 

এব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাছপিয়া জান্নাত চৌধুরী জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠাতার একক অর্থায়নে চলছে। এতে কোন সরকারি সহযোগিতা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সেই দৃষ্টিকোন থেকেই প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক বিলকিস বেগমকে তিন মাসের বেতন দিয়ে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। বিলকিস বেগম তার নির্ধারিত কাজ সঠিকভাবে পালন করতে পারেন না। পাশাপাশি আইসিটি কোন ব্যবহারিক কাজও ভালভাবে করতে পারেন না। তাই বোর্ডের সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে তিন্নি আনোয়ারমহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ক্যাপ্টেন আ.ফ.ম আনোয়ারুল হক জানান, বিলকিস বেগম আইসিটি প্রভাষক হিসেবে পুরোপুরি ব্যার্থ। তার আইসিটির ব্যবহারিক কোন দক্ষতা নাই। তার কাজ আমার অন্য প্রভাষক দিয়ে করিয়ে নিতে হয়। অনেকবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা শুনেন নি। তাই বোর্ডের সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি তাকে অব্যাহতি দিয়েছি।

 

এই বিষয়ে চাকুরি বিধি মানা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান এই বিষয়টি আমার জানা নাই। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজিমুল হায়দার জানান, বিলকিস বেগমের অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি। কলেজের প্রভাষক ও অধ্যক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। তাদের সকল কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। সবকিছু দেখে পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।