১৪, নভেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

মেয়ের ননদকে ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তালই গ্রেপ্তার!

প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৭, ২০১৯

মেয়ের ননদকে ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তালই গ্রেপ্তার!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: মেয়ের ননদকে ধর্ষণের অভিযোগে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন পাইথল ইউনিয়নের গোয়ালবর গ্রামে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৪টায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আতাউর রহমান লালমনিরহাট জেলার সদর থানাধীন কিছামত হারাটি গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে। তিনি গফরগাঁওয়ের পাগলা থানা গোয়ালবর গ্রামের জনৈক রুবেলের মুরগীর খামারে চাকরি করেন এবং খামারের পাশেই পরিবার নিয়ে থাকেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালবর গ্রামের ওই ছাত্রী স্থানীয় এক মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। অভিযুক্ত আতাউর রহমানের মেয়েও একই প্রতিষ্ঠানে একই শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। সেই সূত্রে দুজনের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পরে আতাউর রহমানের মেয়ের বিয়ে হয় নির্যাতিতার বড় ভাইয়ের সাথে। আত্মীয়তার সুবাদে নিপীড়নের শিকার মেয়েটি আতাউরের বাড়িতে বেড়াতে যেতো। গত ২৮ মে মেয়েটি সেখানে বেড়াতে গেলে রাত ৯টার দিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে আতাউর রহমান জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন এবং হুমকি দেন এ ঘটনা কাউকে জানালে ক্ষতি হবে।

পরে মেয়েটি ভয়ে এ কথা কাউকে জানায়নি। এরপর মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে পরিবারের লোকজন দিশাহারা হয়ে পড়েন এবং চাপ প্রয়োগ করে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। পরে ডাক্তার দেখিয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে পাগলা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেল হাজতে প্রেরণ করে।

পাগলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফাইজুর রহমান বলেন, গতরাতে একটি ফোন পেয়ে পুলিশ ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পরিবারকে থানায় আনে। মেয়েটি জানায় যে তার ভাবির বাবা তাকে ধর্ষণ করেছে। বর্তমানে সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় রাত দেড়টার দিকে মেয়েটির বাবা থানায় বেয়াই আতাউর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন। এরপরই আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পাগলা থানার ওসি শাহিনুজ্জামান খান বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর হওয়ায় অভিযোগ পাওয়ামাত্র মামলা রেকর্ড করে আসামি গ্রেপ্তার করেছি। আসামির বাড়ি যেহেতু লালমনিরহাট দেরি হলে পালিয়ে যেত।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।