১২, নভেম্বর, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

রাস্তার পাশে ঔষধি গাছের আবাদ করে স্বাবলম্বী ২১ নারী

প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৮, ২০১৯

রাস্তার পাশে ঔষধি গাছের আবাদ করে স্বাবলম্বী ২১ নারী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: রাস্তার ধারে বাসক চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে পলাশবাড়ী উপজেলার অতিদরিদ্র পরিবারের ২১ নারী। ২০০৭ সালে এ বাসক আবাদে যুক্ত হন তারা। এ ধরণের আবাদের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিক ভাবেও স্বাবলম্বী হয়েছেন এই নারীরা। তাদের আয়ে চলছে সন্তানদের লেখাপড়াসহ নিত্য নৈমিত্তিক খরচাদি।

পলাশবাড়ী উপজেলা মহদিপুর ইউনিয়নের কেত্তরপাড়া কৃষি ক্লাবের সিইজি নারী দলের সদস্য হিসেবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ঔষধি উদ্ভিদ চাষে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ফরকান্দাপুর গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারের ২১ নারী সদস্য। এরপর ২০০৭ সালে ছোট ছোট ৫ দলে ভাগ হয়ে স্থানীয় একটি গ্রামীণ রাস্তার দু’ধারে ঔষধী উদ্ভিদ বাসক আবাদ করেন তারা। চারা রোপনের শুরুতে সামান্য জৈব সার ব্যবহার করলেও এতে কোন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। তাই এ ধরণের আবাদে লাভবান তারা।

ফরকান্দাপুর গ্রামের অতিদরিদ্র বাসক চাষী জরিনা খাতুন বলেন, বাসক চারা রোপনের ৬ মাসের মাথাই পাতা উঠানো শুরু হয় পরবর্তি প্রতি ২ মাস পর পর পাতা তোলা যায়। একটি গাছ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা যায়। গরম কালে এর ফলন বেশি হলেও শীতে কিছুটা কমে যায়।

একই গ্রামের সুলতানা বেগম জানায়, গাছ থেকে বাসক পাতা সংগ্রহ করে কড়া রোদে শুকানো হয়। তার পর ওই শুকনো পাতা বিক্রয় পয়েন্টে নিয়ে গেলেই বিক্রি হয়ে যায়। প্রতি কেজি শুকনো পাতা ৩৭ থেকে ৪২ টাকা টাকায় বিক্রি কর হয়।

রাস্তার ধারে পতিত জমির অংশে বাসক চাষ করে দরিদ্র নারীদের শুধু কর্মস্থানের সৃষ্টি হয়নি সেই সাথে আর্থিক ভাবেও তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সি ই জি কৃষি ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় কৃষকরা।

পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, পলাশবাড়ী উপজেলায় ৫৬টি কৃষক দল ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ১৯০ কিলোমিটার রাস্তা লিজ নিয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন কৃষক দল ৬০ কিলোমিটার রাস্তার দু’ধারে বাসক আবদ করছে। এতে করে পতিত জায়গা চাষের আওতায় আসছে সেই সাথে আর্থিক সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা। এধরনের চাষে তারা কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের মাধ্যমে।

সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এ ধরনের ঔষধি চাষে পুরো জেলায় ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে যেমন দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে সেই সাথে তারা আর্থিক ভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।