৯, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

ভাইয়ের সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী চাচার

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১১, ২০১৯

ভাইয়ের সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী চাচার

সিএনআই ডেস্ক: জাজিরায় আপন চাচা তার সহযোগীদের নিয়ে ভাতিজাকে অপহরণ করার দুই দিন পর জাজিরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতারসহ অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করেছে।

এ ঘটনায় অপহৃত শিশু মাহিমের মা শুভতারা বেগম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। উদ্ধারকৃত শিশু মাহিম হাসান (৮) শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার সেনেরচর দক্ষিণ কান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রিপন মৃধার ছেলে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন (ভিকটিমের চাচা) শিপন মৃধা (২৫), একই উপজেলার কুড়িটাকার চর গ্রামের রাজ্জাক মোল্যার ছেলে রুবেল মোল্যা (৩০) ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের আব্দুল খালেক হাউদের ছেলে সোলায়মান ওরফে আল আমিন হাউদ (৩০)। এ বিষয়ে জাজিরা থানায় মামলা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত শিশু মাহিম, তার পরিবার ও জাজিরা থানা সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার সেনেরচর দক্ষিণ কান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রিপন মৃধার ছেলে মাহিম একই এলাকার ২৪ নং পশ্চিম সেনের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ৯ নভেম্বর মাহিম প্রতিদিনের মত বিদ্যালয়ে যায়।

টিফিনের সময় মাহিমের চাচা শিপন মৃধা বিদ্যালয়ে গিয়ে মাহিমকে বলে, তোর মামা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তোর মা তাকে নিয়ে ঢাকায় চলে গেছে। এখন তোকে আমার সাথে ঢাকায় যেতে বলেছে’। মাহিম বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে বলে তার চাচা শিপনের সাথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। স্থানীয় বঙ্গবাজারে গিয়ে শিপন মাহিমকে রুবেল ও আল আমিনের সাথে অটোবাইকে তুলে দেয়। রুবেল ও আল আমিন মাহিমকে কাঠালবাড়ি ফেরী ঘাট দিয়ে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর বিদ্যুৎ অফিস গলির কাঠপট্টির নয়ন তারার বাড়ির ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মাহিমকে আটকে রেখে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাহিমের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে অপহরণকারীরা।

জাজিরা থানা পুলিশের এস আই আবু শাহাদাত মোঃ শাহিন ও মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, শিশু মাহিম অপহরণের সংবাদ পেয়ে প্রথমে মাহিমের চাচা শিপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করি। পরবর্তীতে আটকৃত শিপনকে সাথে নিয়ে তার কথিত মতে ঢাকার কামরাঙ্গীর চর এলাকার কাঠপট্টি বিদ্যুৎ অফিসের গলির রুবেল মোল্যার ভাড়া বাসা থেকে ১১ নভেম্বর সকালে দিকে মাহিমকে উদ্ধার করি এবং রুবেলকে গ্রেফতার করি। পরবর্তীতে রুবেলের কথা মত কামরাঙ্গীরচর পূর্ব রসুলপুর ৯ নং গলির সম্রাট মিয়ার বাসা থেকে আল আমিনকে গ্রেফতার করি। পরে উদ্ধারকৃত ভিকটিম ও গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়ে জাজিরা থানায় আসি।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মাহিমকে তারই চাচা শিপন মৃধা রুবেল ও আল আমিনকে নিয়ে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবীতে অপহরণ করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশী অভিযান পরিচালনা করি। প্রথমে মাহিমের চাচা শিপনকে গ্রেফতার করি। তারই কথা মতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে মাহিমকে উদ্ধার করি এবং আসামীদের গ্রেফতার করি। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।