১৪, ডিসেম্বর, ২০১৯, শনিবার | | ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

আমন ধানে বুলবুলির মই

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১১, ২০১৯

আমন ধানে বুলবুলির মই
বরগুনা প্রতিনিধি : দক্ষিণাঞ্চলে এখন আমনের মৌসুম। এবার বাম্পার ফলন হলেও বুলবুলের আঘাতে আছড়ে পড়ে খেতে জমে থাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বরগুনায় কৃষির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমন খেতে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ফলনের এ সময়ে বুলবুলের আঘাতে রোপা আমন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় ৯৮ হাজার ৬৩৯ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ৯ হাজার ৮৬৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী এলাকার কৃষক কামাল হোসেন প্রায় ১০ একর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করেছিলেন। তিনি বলেন , ‘ধান গাছে কেবল ফল ধরতে শুরু করেছে, এমন সময়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খেতের সমস্ত ধান ছিন্নভিন্ন হয়ে জমিতে জমে থাকা পানিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে সমস্ত ধান চিটায় পরিণত হয়ে যাবে।’
একই অবস্থা সদরের চান্দখালী,বদরখালী, নলটোনা, বুড়িরচর, আয়লাপাতাকাটাসহ প্রায় সব ইউনিয়নের। নলটোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কেএম শফিকুজ্জামান মাহফুজ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের সাথে প্রবল বর্ষণে ফসলের খেতে পানি জমে প্রায় সমস্ত কৃষি জমির রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব। ’
বুলবুলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, ‘এমন সয়ম বইন্যাডা আইছে, যহন কেবল ধানের ফলন শুরু অইছে, মোগো মোডাধান এহন সব চিডা অইয়া যাইবে, ধার দেনা কইরা এবার চাষবাস করছিলাম। কেমনে যে কি হরুমু আনে মাথায় ধরে না।’
তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউয়িননের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘মোগো ধানফান এবার সব শ্যাষ, খ্যাতে চিডা ছাড়া কিচ্ছু অইবে না, গুরাগারা লইয়া হাঙ্গা বচ্ছর (সারা বছর) কী খামু আনে কইতে পারি না।’
আমতলি, বেতাগী ও বামনা উপজেলারও রোপা আমনের একই অবস্থা। বামনা উপজেলার রামনা এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ধান খেতের মধ্যে যে পানি জমা হয়েছে, তা যদি নিষ্কাশন না হয় তাহলে গাছের গোড়ায় পচন ধরবে। সেক্ষেত্রে আমাদের দুর্দশার শেষ থাকবে না।’
কৃষি নিয়ে কাজ করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডোকাপ (Docap)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে বেশ ক’বছর ধরে জমিতে দুই ফসলি ধান চাষ করা হয়। বোরো মৌসুমের শেষে রোপা আমনের চাষ করা হয়। যেসব এলাকায় দুই ফসলি চাষাবাদ হয়, সেসব এলাকার রোপা আমনে কেবল ফলন শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানায় ফলন বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া এক ফসলি জমির আমন পরিপক্ক হতে শুরু করেছিল। এসব ধানের অর্ধেক চিটায় পরিণত হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের সহনশীল জাতের ধান চাষ করতে সরকারের কৃষি বিভাগের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। ’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করেছি। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে যতদ্রুত সম্ভব মন্ত্রণালয়ে ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে পাঠাব।’
জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘বরগুনার যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে, সেসব এলাকায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।