৯, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

‘আজ ১৫ নভেম্বর ভয়াল সিডর দিবস’

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১৫, ২০১৯

‘আজ ১৫ নভেম্বর ভয়াল সিডর দিবস’

আল-আমিন এম তাওহীদ : ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আসলেই স্বরণ করিয়ে দেয় ভয়াল সেই সিডরের কথা । ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ।

১৫ নভেম্বর এই দিনে সারাদেশসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চল লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় সিডর। সিডরের তান্ডবে আমতলী, রায়েন্দা উপজেলাসহ ৩৮৬ জন মানুষ প্রাণ হারায়। উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ২৩০ কিলোমিটার ছিল শুধু ধ্বংসযজ্ঞ আর লাশের স্তূপ।

শতাব্দীর ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিল সাড়ে তিন হাজার মানুষ। নিখোঁজ হয়েছিল আরো সহস্রাধিক। সেই সময়ে বেঁচে যাওয়াদের স্বজন হারানোর স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।
সেদিন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জনপথগুলো মুহূর্তের মধ্যেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মাঠঘাট এমনকি গাছের সাথে ঝুলেছিল শত শত মানুষের লাশ। গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ।

সিডরে সবচেয়ে বেশি য়তি হয় বরিশাল, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলায়। বহু মানুষ তাদের প্রিয়জনের লাশও খুঁজে পায়নি। ঘূর্ণিঝড়ের পর টানা দুই মাস পর্যন্ত স্বজন হারানোদের কান্নায় উপকূলের আকাশ-বাতাস ভারী ছিল। অতীতের সব ক’টি ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে ২০০৭ সালের সিডর নামের ঝড়টি ছিল বেশি হিংস্র।

ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর আসে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ তারপর ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’। মহাসেনের আঘাতে বরগুনায় তেমন কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সিডর ও আইলায় বরগুনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু পরিমাণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করলেও বর্তমানে জেলার প্রায় ১৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক বিধ্বস্ত রয়েছে এবং ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুরোপুরি বিধ্বস্ত আছে। ফলে এখনো জেলায় লক্ষাধিক মানুষ দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্য দিকে প্রতিনিয়তই স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেলেই নদী পাড়ের শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

শুধু ঘরবাড়ি নয় বরগুনা জেলার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। যাদের ওই সব ফসলের ওপর নির্ভর করে জীবন জীবিকা তাদের শেষ পর্যন্ত নিতে হয় ধারদেনাসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন। এ দিকে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বারবার বেড়িবাঁধগুলো নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এর কোনো ফলাফল পায়নি বরগুনার বন্যাদুর্গত মানুষেরা। বেড়িবাঁধগুলো পুনর্নির্মাণ না করার কারণে এখনো ঝুঁকির মধ্যে আছে বরগুনার নদী পাড়ের বহু এলাকা। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় নদী পাড়ে উজাড় হওয়া জমিতে এখন গড়ে উঠেছে শত শত ঘরবাড়ি ও আবাসন প্রকল্প। সেখানে বসবাস করছে বহু ভূমিহীন পরিবার।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।