১৪, ডিসেম্বর, ২০১৯, শনিবার | | ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪ দাবি জানিয়ে অঝোরে কাঁদলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা!

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১৯, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪ দাবি জানিয়ে অঝোরে কাঁদলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা!

সিএনআই ডেস্ক: এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক নেতাই ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দলে যেখানে ত্যাগী নেতাদের শক্ত অবস্থানের থাকার কথা, উল্টো অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্মে দিনের পর দিন ত্যাগীরা হয়ে পড়েছে কোণঠাসা। এর মাঝেও কিছু নেতাকর্মী অবহেলা, লাঞ্ছনা উপেক্ষা করেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরবে নিভৃতে টিকে আছে। এমনই একজন মোতাহার হোসেন রানা।

মোতাহার হোসেন রানা তার ছাত্রজীবনের শুরুতে আশির দশকের শেষের দিকে মিরসরাই থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সম্পৃক্ত হন। একসময়ে কবি জসিমউদ্দিন হল ছাত্রসংসদের নির্বাচিত নেতা ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯২ সালের ১১মে গঠিত ৬৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির (মাইনুদ্দিন – ইকবালুর রাহীম) সদস্য হিসেবে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাকে দেখা যেতো মিছিলের পুরোভাগে। তিনি দক্ষ সংগঠক, সাহসী মুজিব সৈনিক, পরিশ্রমী ছাত্রনেতা এবং সুবক্তা ছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মীরসরাইতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। ট্রাকের ধাক্কায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। মাথা থেতলে যায়, মস্তিস্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৎকালীন পিজি হাসপাতালের বিখ্যাত নিউরোসার্জন অধ্যাপক রশিদ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলে তার। অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া তখন জুনিয়র নিউরোসার্জন হিসেবে দেখভাল করেন। মৃতপ্রায় রানা চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা সেরে উঠলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। সেই থেকেই অসুস্থ জীবনের ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায় মোতাহের হোসেন রানার বাড়ি। সেখানেই তিনি স্ত্রী ও ৬ ছেলেমেয়ে নিয়ে তার বসবাস করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সালের শেষের দিকে ধানমন্ডি ৩/এ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে অফিশিয়াল কাজে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজের জন্য তার অসুস্থ শরীর উপযুক্ত না থাকায় গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। তবে শেখ হাসিনার সহায়তা পেয়েছেন বরাবরই। বর্তমানেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামান্য ভাতা পান তিনি। ঐ ভাতায় তার পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-দাওয়া ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে কষ্ট হয়।

এ বিষয়ে রানা জানান, বর্তমান সময়ে তিনি ছেলে মেয়েদের নিয়ে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার কোন দাবি বা আবেদন আছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে রানা তিনিটি দাবির কথা জানান। যেগুলো হলো-

১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন ঢাকাতে থাকার জন্য একটু ব্যবস্থা করে দেন।

২. তার ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচের ব্যবস্থা করে দেন।

৩. যারা দলের দুঃসময়ে ত্যাগী কর্মী ছিল, তারা নিজেদের জন্য কিছুই করেনি। প্রায় জেলা উপজেলায় তারা নির্যাতিত আছে এবং দলের প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কেহ জেলহাজতেও আছে প্রধানমন্ত্রী যেন তাদের তালিকা করে পাশে দাঁড়ান।

৪. বর্তমানে তিনি অসুস্থ। দেশে বা দেশের বাহিরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ছিলো গত ১৬ নভেম্বর। সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একসময়ের মাঠকাঁপানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানা। তার নিজ হাতে গড়া নেতাকর্মীরা সভামঞ্চে জায়গা পেলেও রানার জন্য মঞ্চে সামান্য একটু জায়গা হয়নি। তাইতো অবহেলিত রানা বসেছিলেন দর্শকসারির এক কোণায়। পরণে ছিলো ময়লা ছেঁড়া শার্ট। যাকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না এই লোকটিই একসময় ছাত্রলীগের দাপুটে নেতা ছিলেন। সেদিনের রানার একটি ছবি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, মোতাহার হোসেন রানা ভাই যে আসনে ঐ আসনের এমপি ইঞ্জিঃ মোশাররফ। যিনি সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, মোতাহার হোসেন রানার একটা ছবি গতদুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবির সূত্র ধরেই সামনে আসে রানার ছাত্ররাজনীতির সংগ্রামী ইতিহাস। যে ইতিহাস হয়তো নতুন প্রজন্মের ছাত্রনেতাদের জানাই ছিলোনা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।