শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং

অর্থনীতিতে আইসিটি উদ্যোক্তাদের অবদান বাড়াতে ‘সমর্থন দেবে সরকার’

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১৯, ২০১৯

অর্থনীতিতে আইসিটি উদ্যোক্তাদের অবদান বাড়াতে ‘সমর্থন দেবে সরকার’

সিএনআই ডেস্ক: তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তারা যাতে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন, সেজন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।মঙ্গলবার রাজধানীর কেআইবি অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তরুণ উদ্যোক্তা-পৃষ্ঠপোষক কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে এসে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা ২০২১ সালের মধ্যে ১ হাজার স্টার্টআপকে সাপোর্ট দেব, সেখানে থেকে যদি ১০০ স্টার্টআপ সফল হয়… বাকি ৯০০ স্টার্ট আপের যে ইনভেনশন থাকবে তাও ন্যাশনাল ইকোনমিতে বড় কন্ট্রিবিউশন রাখতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে পলক বলেন, “ক্রিয়েটিভিটি, ক্রিয়েশন, ক্যাপিটাল, কলাবোরেশন- এই চারটি ‘সি’ থাকলে তরুণ উদ্যোক্তাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য চলতি অর্থ বছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইসিটি বিভাগের স্টার্ট আপ প্রকল্পে নিবন্ধিত হলেও সে প্রকল্পে সরকারের ৪৯ শতাংশের বেশি শেয়ার থাকবে না।

দেশে এখন ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ কর্মী রয়েছে বলে জানান পলক।

২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া আইসিটি বিভাগ ওই একই সময়ের মধ্যে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ অনুষ্ঠানে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ফিলোসফি অব রেভোলিউশন’ শিরোনামে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় দেশের প্রযুক্তি খাতের নানা দিক  তুলেন ধরেন পলক।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ একাডেমি (আইডিয়া) প্রকল্প থেকে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই এক হাজার উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

পলক এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আইডিয়া প্রজেক্ট থেকে তারা প্রথমে ১০ হাজার উদ্যোক্তা খুঁজে বের করতে চান। তার মধ্য থেকে ‘ইনোভেটিভ ভায়াবল প্রডাক্টের’ বিবেচনায় এক হাজার উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।

এই উদ্যোক্তাদের ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন জোগানো হবে বলেও জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

৪০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা কর্মক্ষেত্র ও অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ারের সেতু হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির অনুষ্ঠানের মূল বক্তা গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের কেউ গ্রামীণফোনের কোনো সার্ভিসকে ‘টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জ’ করলে তারা স্বাগত জানাবেন।

অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ইউএস মার্কেট একসেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস বারি, সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার।

পলক জানান, আইসিটি বিভাগের স্টার্ট আপ সার্কেলের ৩৩তম সদস্য হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রকল্পগুলোকে সহায়তা করবে আইসিটি বিভাগ।

বাংলাদেশে এখন যে ২৮টি হাইটেক পার্ক রয়েছে, সেগুলোর যে কোনোটির ল্যাবে প্রথম ৬ মাস বিনামূল্যে এসব প্রকল্প নিয়ে গবেষণা করতে পারবে তরুণরা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।