২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, সোমবার
২৫শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

শিক্ষার জন্য চাই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ২৩, ২০১৯

শিক্ষার জন্য চাই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ

সিএনআই ডেস্ক:

মানবশিশু : অপার সম্ভাবনা

বিশাল অপার সম্ভাবনার নাম মানবশিশু। এই সম্ভাবনাকে অবশ্যম্ভাবী করার জন্য একান্ত প্রয়োজন শিশুর বিকাশ, শিশুর শিক্ষা। শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিশুর বিকাশে প্রয়োজন শিশুবান্ধব শিক্ষা, শিশুবোধক বই, শিশুতোষ শিক্ষা উপকরণ। শিশুর মনের উৎকর্ষ সাধনই শিশু বিকাশের মূল কথা। শিশুবোধক বই শিশুকে আকৃষ্ট করে, পঠনে অভ্যস্ত করে। পঠনদক্ষতা শিশুর শিক্ষা বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যক।

শিশুর জীবন ও মন-মানসিকতা

শিশুর জীবন দলছুট হরিণের মতো। তারা সবসময় গতিবদ্ধ জীবন হতে বেরিয়ে আসতে চায়। শিশুরা সবসময় বাঁধার প্রাচীর ভাঙতে চায়। তারা চায় নীল আকাশের নিচে উন্মুক্ত জীবন, যেখানে কোন ধরাবাধা নিয়ম শৃঙ্খলা থাকবে না। শিশুরা ছুটতে চায়, খোলা আকাশের নিচে, নিজের মতো করে। তাই শিশুর রুচি ও মানসিক চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকের মূল কাজ হচ্ছে শিশুর মাঝে মুক্ত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সঠিক পথে পরিচালিত করা।

শিশুকে শিক্ষাদান পদ্ধতি

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে শিশুদের জন্য আনন্দঘন শিশুবান্ধব পরিবেশ, শিশুবান্ধব শ্রেণিকক্ষ এবং শিশুবান্ধব শিক্ষকের বড়ই অভাব। শিশুদের মন-মানসিকতার উপযোগী শিক্ষার জন্য কিছু প্রস্তাবনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

১. ইসলামি বুনিয়াদি শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা

ইসলামি বিধি-বিধান অনুযায়ী তাদেরকে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া। আল্লাহর পরিচয়, কুরআন, হাদিস, তারবিয়্যাহ, সালাম দেওয়া, কুশলবিনিময়, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ শিক্ষা দেওয়া।

২. শিশুর ওপর জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেয়ার নাম শিক্ষা নয়

শিশুর গ্রহণ উপযোগী আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা দানই হলো প্রকৃত শিক্ষা। প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক রুশো বলেছেন, ‘Education is the child’s development from with in’ অর্থাৎ ‘শিক্ষা হলো শিশুর স্বতঃস্ফুর্ত আত্মবিকাশ’। আনন্দহীন শিক্ষা, শিক্ষা নয়, যে শিক্ষায় আনন্দ নেই, সে শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে না। শিক্ষার্থীর মন কোমল ও ভীতিপ্রদ এবং সৃজনশীল। তাই তাদেরকে সেভাবে শিক্ষা দেওয়া।

৩. শিক্ষককে আনন্দমূলক শিক্ষার কৌশল রপ্ত করা

শ্রেণিকক্ষে নাটকীয় ভঙ্গিমায় চিত্তাকর্ষক পাঠদান করা। শিশুর মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করা। এতে করে তাদের কোমল মনে চিন্তার প্রসারতা ঘটবে। তার মনে বিশ্বকে জয় করার মানসিকতা গড়ে উঠবে। অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার, অদেখাকে দেখার চরম ইচ্ছা জাগ্রত হবে।

৪. বিদ্যালয় শিশুর মেধা ও মননশীলতার বৈচিত্রময় লীলাভূমি

এটি শিশুর অবাধ জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রস্থল। শিক্ষক হলেন এ অবাধ জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক। অহেতুক ভয়-ভীতি, সংশয় ও দ্বিধা শিশুর জ্ঞান লাভের স্পৃহাকে নষ্ট করে দেয় এবং তাদের মনে একঘেয়েমি সৃষ্টি করে। তাই শিশুর জানার পথে যাতে একঘেঁয়েমি সৃষ্টি না হয় সেদিকে আদর্শ শিক্ষককে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। শিক্ষককে শেখার পরিবেশে নতুনত্ব আনতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে বৈচিত্রময় শিক্ষার ধারার প্রবর্তন করতে হবে।

৫. শিশুর মন-মানসিকতার উপযোগী কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা

পাঠ্যপুস্তক, সিলেবাস, কারিকুলাম, শিক্ষাউপকরণ, শ্রেণিকক্ষের ডেকোরেশন, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, একজন শিক্ষকের উপস্থাপনাসহ সব কিছুই হতে হবে শিশুর মন-মানসিকতার উপযোগী। তাহলে অধিক ফলপ্রসু হবে শিক্ষার মান। অর্জিত হবে বহুল প্রতিক্ষিত ও কাঙ্খিত গুণগত মান। গড়ে উঠবে একজন শিশু প্রকৃত জ্ঞানের ধারক-বাহকরূপে।

৬. সহপাঠ্যক্রম হিসেবে

শিশুদের মননে লুকায়িত শত-সহস্র এবং হাজারো সুপ্ত মেধা ও প্রতিভা বিকাশের উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত পরিবেশের জন্য প্রয়োজন হলো : সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎষরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে শিশুরা নিজেদের সুপ্ত মেধা ও প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। যথা : ‘কুরআন তিলাওয়াত, হামদ, না‘ত, গজল, আযান, স্বরচিত ও সংগৃহীত ছড়া-কবিতা আবৃত্তি, শরীর চর্চা তথা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। আরবি, বাংলা ও ইংরেজি উপস্থাপনা, বক্তব্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতা। আরবি ও ইংরেজি কথোপকথন। হিফযুল কুরআন, হিফযুস সুওয়ার, হিফযুত তাওহিদ, নাহু, সরফ প্রতিযোগিতা। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ইসলামী শর‘য়ী পদ্ধতিতে আনন্দ-বিনোদন উৎযাপন ও উপভোগ করণ। কৌকুত, ধাঁধাঁ। কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নানাবিধ কর্মসূচী প্রহণ করা যেতে পারে শিশুর কল্যাণে।

উপসংহার

সর্বোপরি শিশুর সুপ্ত মেধা ও প্রতিভা বিকাশে আদর্শ শিক্ষক, বিদ্যালয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সঠিক ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি চিত্তবিনোদনসহ সর্ববিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রেখে উন্নত জাতিতে রূপান্তরিত করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন, আমীন।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।