সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২০ ইং

চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে পুঁইশাক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ রন্ধনশালায় গৃহিণীদের প্রিয় তরকারির তালিকায় রয়েছে পুঁইশাক। পুঁইশাক বেশ জনপ্রিয় একটি শাক। এর রয়েছে অনেক গুণাগুন। গুল্ম জাতীয় গাঢ় সবুজ রঙের পুঁইশাক  সবরকম জায়গাতে চাষ করা সম্ভব। উপকারিতার যেন শেষ নেই এই শাকে। এর পাতা ও কান্ড নরম ও রসালো হওয়ায়  সহজে তা হজম হয়ে থাকে বলে সর্বজন প্রিয় এই শাক। আমাদের দেশে দুটি পদ্ধতিতে পুঁইশাকের চাষ হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। একটি হলো জমিতে বীজ বপনের মাধ্যমে অপরটি হলো মাচা পদ্ধতিতে চাষ। দেশীয় দুটি পদ্ধতিতেই পুইশাকের ভালো চাষ হয়। পুঁইশাকের চাহিদা দিনদিন বেড়ে যাওয়াই চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে । জেলার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের মিনাজপুর গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান তার দুই বিঘা জমিতে পুইশাকের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষাবাদ শুরু করে। সেখান থেকে খরচ পুশিয়ে তার এখন লাভের সম্ভবনা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গাসহ বাইরের জেলার চাহিদা মেটাতে এ চাষ আরো সম্প্রসারিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষিসম্প্রসার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আলী হাসান জানান জেলাজুড়ে পুঁইশাকের  ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই কেউ কেউ বসতবাড়ির আঙিনায় পুঁইশাকের চাষ করে থাকে । এছাড়াও অনেকে এখন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। এর বাইরেও বাজারে পুইশাকের মিচুরির ভালো দাম পায় চাষীরা এজন্য সারা বছরই এ চাষ করতে তারা আরও আগ্রহী হয়েছে। তিনি আরও জানান সহজলভ্য বলে এই শাক কম-বেশি সবার কাছে প্রিয়। এছাড়াও  পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, দেহের বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে বাইরে যেতে সাহায্য করে। এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন `এ` এবং `সি`, যা ত্বকের রোগজীবাণু দূর করে। চোখের পুষ্টি জোগানো ও চুলকে মজবুত রাখে। গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত শাক, বিশেষ করে আঁশজাতীয় শাক, যেমন পুঁই বা মিষ্টিকুমড়ার শাক খায়, তাদের পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুবই কম আঁশজাতীয় খাবার পাকস্থলী ও কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পুঁইশাকে রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই। এজন্য জেলার কৃষকদেরকে পুঁইশাক চাষের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।