৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং, শনিবার
১০ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

দিল্লিতে তবলিগি জামাতের সমাবেশে যোগ দেওয়া ৬৪৭ জন করোনা আক্রান্ত!

দিল্লির নিজামউদ্দিনের তবলিগি জামাতের সমাবেশে হাজির হওয়া মানুষদের নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে গোটা দেশে। সেই উদ্বেগ এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিল সরকারের একটি পরিসংখ্যান। ওই সমাবেশে হাজির হওয়া এমন প্রায় ৬৫০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে শুক্রবার সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে বলা হয়, “তবলিগি জামাতের সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন এমন ৬৪৭ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে গত দু’দিনে।” দেশের ১৪টি রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন আক্রান্ত হওয়া এই মানুষগুলো। এমনও জানিয়েছে মন্ত্রক। মার্চ মাসের শুরু থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আলামি মার্কেজ বাংলেওয়ালি মসজিদে ধর্মীয় জমায়েতের ডাক দিয়েছিল তবলিঘি জামাত। তাতে যোগ দিতে এসেছিলেন দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার মানুষ। বিশ্ব জুড়ে করোনা তখন রীতিমতো থাবা বসিয়েছে। সেই আবহেই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কিরঘিজস্তান থেকে বিদেশিরা এসেছিলেন। ১৫ মার্চ অনুষ্ঠান শেষের পরেও নিজামউদ্দিন এলাকাতেই থেকে যান অনেকে। জনতা কার্ফুর আগের দিন অর্থাৎ ২১ মার্চ ওই মসজিদে ছিলেন ১৭৪৬ জন। যাঁদের মধ্যে ২১৬ জন বিদেশি ছিলেন। আর গোটা দেশে সেই সময়ে বিদেশ থেকে আসা মুসলিম ধর্মপ্রচারক ছিলেন ৮২৪ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইটালি, ফ্রান্স-সহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৩০০ প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন সমাবেশ। সেই সব প্রতিনিধি এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা মিলিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৫৫০ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট আসে। আরও অনেকে ভর্তি দিল্লি-সহ দেশের ২৩টি রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে। মন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই সমাবেশে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী এসেছিলেন তামিলনাড়ু থেকে। ওই রাজ্য থেকে এসেছিলেন প্রায় ৫০০ জন। উত্তরপ্রদেশ ইতিমধ্যেই ১৬০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ওই ধর্মসভায় অংশগ্রহণ করেছেন। মহারাষ্ট্র থেকে ১০৯, মধ্যপ্রদেশ থেকে ১০৭, বিহার থেকে ৮৬ জন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৭৩ জন, তেলঙ্গানা থেকে ৫৫ জন, ঝাড়খণ্ড থেকে ৪৬ জন ওই ধর্মসভায় যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও, মেঘালয়, ওড়িশা, পঞ্জাব, রাজস্থান, আন্দামান, হিমাচল প্রদেশ থেকেও মানুষ গিয়েছিলেন ওই ধর্মসভায়। আন্দামানে ৯ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে যাঁরা ওই তবলিগে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। যাঁদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে দিল্লি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের গন্তব্যে ফিরে গিয়েছেন। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কাটা বেড়ে গিয়েছে।