সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২০ ইং

করোনার তথ্য অনেক আগে থেকেই জানত চীন, দেশ ছেড়ে জানালেন চীনা গবেষক

  আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার তথ্য চীন ধামাচাপা দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে করোনাভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুরু থেকেই বলে আসছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবার এ বিষয়ে কথা বললেন চীনের হংকং থেকে পালিয়ে নিজের জীবন বাঁচানো ভাইরোলজিস্ট ও ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞ লি-মেং ইয়ান। তিনি বলছেন, ‘চীন সবার আগেই এই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সম্পর্কে জেনেছিল। কিন্তু এর তথ্য দেশটি বেমালুম চেপে যায়।’ এই ভাইরোলজিস্ট বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। লি-মেং ইয়ান বলেন, ‘সবার আগে এই মারণ ভাইরাস সম্পর্কে জেনেছিল চীন। কিন্তু তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। শুধু তাই নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা প্রফেসর মালিক পেইরিসের কাছেও বিষয়টি অজানা নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনিও কোনো রকম হেলদোল দেখাননি।’ তিনি জানান, ‘উহান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অনেক আগেই এটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন তিনি। বুঝতে পারেন এই ভাইরাসের মারণ ক্ষমতাও। তবে কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায় তার উত্তর যখন তিনি খুঁজতে শুরু করেন তখন বাদ সাধে সরকার। একের পর এক হুমকি ফোন আসতে থাকে, হ্যাক করা হয় কম্পিউটার, শুরু হয় নজরদারি।’ ‘আমি জানতাম পালিয়ে না এলে আমাকে খুন করা হবে। চীনের যেসব ডাক্তার ও বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাস নিয়ে চর্চা করছিলেন তারা সবাই একে একে নিখোঁজ হন। পরে তাদের মৃত্যুর খবর আসে। ফলস্বরূপ ভয়ে মুখ বন্ধ করতে বাধ্য হন ডাক্তাররা।’ করোনাভাইরাসের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনা উহানের ডাক্তার ওয়েনলিয়াঙের কথা সাক্ষাৎকারে তুলে ধরে এই ভাইরোলজিস্ট বলেন, ‘করোনাভাইরাস সম্পর্কে মুখ খোলায় রাতারাতি নিখোঁজ হন ডাক্তার ওয়েনলিয়াঙ। পরে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। বলা হয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’ ‘চীনে কীভাবে মৃতদেহ সৎকার করা হচ্ছে সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আনার পর নিখোঁজ হন চেন কিউসি নামের এক সাংবাদিক,’- বলছিলেন চীনের হংকং থেকে পালিয়ে বাঁচা লি-মেং ইয়ান। ডা. লি মেং ইয়ান হংকংয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথের ভাইরোলজি ও ইমিউনোলজি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ এপ্রিল চীন সরকারের দৃষ্টি এড়িয়ে হংকং থেকে আমেরিকায় পালিয়ে যান তিনি।