শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং

৬ দফা দাবিতে ঢাকা কলেজে বিক্ষোভ

সিএনআই ডেস্ক: সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের ছুরিকাঘাতে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার সকাল ৮টায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিক্ষোভে অংশ নেয়া সবাই ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী। কর্মসূচিতে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা বর্জনের হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- আহতদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে হবে। ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার সকল খরচ প্রশাসন অথবা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কলেজের সকল ছাত্রের নিরাপত্তার দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সকলের জন্য কলেজ বাস নিশ্চিত করতে হবে (ছুটির আগে ও পরে)। বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কখনও কাম্য নয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি। এসময় ঢাকা কলেজের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কমিটি (নিপক) এবং তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ কমিটির (তাপক) সদস্যরাসহ অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ। অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি ইতোমধ্যেই পূরণ হয়েছে। আমরা চাই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হোক। সকল শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কলেজ প্রশাসন বদ্ধপরিকর। আমরা আশা করি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না এবং যারা অসুস্থ অবস্থায় আছে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের ব্যাপারে কলেজ প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। পরে অধ্যক্ষের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যান। উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের ছুরিকাঘাতে ঢাকা কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। ঘটনার দিন আহত শিক্ষার্থী নেহালের বাবার দায়ের করা মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত সিটি কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারকৃত তিন শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পুলিশের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে আাদালত ওই তিন শিক্ষার্থীকে জাতীয় কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠায়।