৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার
১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

বর্ষবরণের টাকায় জবি শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়ার দাবি

জবি প্রতিনিধিঃকরোনা ভাইরাসে স্থবির রয়েছে পুরো দেশ।  সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। করোনা ভাইরাস জনিত সঙ্কটে বন্ধ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বন্ধ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও। মানবিক বিবেচনায় মেসভাড়া অর্ধেক বা সম্পূর্ণ বাতিলের কথা বলছে সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন যাবৎ বেশ কিছু শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে তাদের এই দাবির কথা জানা যায়। এমনকি তারা "বাড়ি ভাড়া মওকুফে জবিয়ানদের অভিমত" ফেইসবুক গ্রুপ খুলেও সেখানে তাদের অভিমত প্রকাশ করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বড়অংশই টিউশনির টাকায় মেস ভাড়া দেন। ফলে টিউশন না থাকায় মেসভাড়া কোথা থেকে তারা জোগাড় করবে তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাসা ভাড়া গড়ে  ১৮০০-২৭০০  টাকা হয়ে থাকে। একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় বাড়িওয়ালার নানা কড়া নিয়ম-কানুনের মধ্যে দিয়ে বাসায় থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়েরা কোচিং-টিউশনি করে তাদের খরচ বহন করে থাকে।কিন্ত কোভিড-১৯ এর মহামারীর ফলে থমকে গেছে তাদের স্বাভাবিক উপার্জন, নেই কোনো টিউশন, বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের কোচিং ও। এই সময়ে উপার্জনক্ষম সব কিছুই বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকের আয়-উপার্জন বন্ধ।কিন্ত মাস শেষ হতে না হতে বাসার মালিককে দিতে হবে বাসা ভাড়া সেই চিন্তা আছে অনেক শিক্ষার্থীর মাঝেই। তাই করোনার সময়ে বাসা ভাড়া মওকুফে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী,  রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, মেস ভাড়া বাতিলের বিষয়টা অনেক কঠিন, কারণ সরকারী নির্দেশনা ছাড়া মালিকপক্ষ ভাড়া ছাড়বে বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে যে সমস্ত শিক্ষার্থী একান্তই অসহায় ভাড়া দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্ষবরণের বেঁচে যাওয়া টাকায় তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তৌসিব সোহান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অনাবাসিক, অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশনির টাকায় মেসে থাকে। স্থগিত হওয়া নববর্ষের অনুষ্ঠানের বাজেট যাদের পরিবারের সমস্যা তাদেরকে যথাযথ ভাবে সেই বাজেট বিতরণ করা হোক। পাশাপাশি যেহেতু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় তাই নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবসের খরচ থেকে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়ার জন্য জবি প্রশাসন ভর্তুকি দিক সেই দাবি জানাচ্ছি।
সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মালিহা হাওলাদার বলেন, করোনা মহামারিতে বাড়িওয়ালাদের উচিত ভাড়া মওকুফ করা।কেননা,জগন্নাথের প্রায় ৮০% শিক্ষার্থী  গ্রাম থেকে আসা নিম্নবিত্ত পরিবারের।ফলশ্রুতিতে তারা টিউশনের মাধ্যমে নিজেদের এবং কেউকেউ পরিবারেরও দায়িত্ব নিতে হয়। সারাদেশ এখন স্হবির,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ যার কারণে প্রায় শতভাগ এখন গ্রামের বাড়িতে।উপার্জন উপায়ও বন্ধ।আবার টিউশন না করালেও যে মানবিকদিক বিবেচনাপূর্বক তাদের বেতন দিবে এমন গার্ডিয়ানও নগণ্য। তাই দেশের অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় বসবাস শুরুর আগে ভাড়াপ্রদানে যাতে চাপ প্রয়োগ করা নাহয় সেদিকে জবি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আরেক শিক্ষার্থী ঝিলিক বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও দিতে হবে মেস ভাড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশই টিউশনির টাকায় মাসিক খরচ চালায়। এমন পরিস্থিতিতে টিউশন না থাকায় তাদের তাদের ম্যাস ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ চালাতে বেশ অসুবিধাই হয়ে পড়ছে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে মেস ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। পহেলা বৈশাখের টাকায় আমাদের মেস ভাড়ার ব্যবস্থা করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ ইমন বলন, এই দুর্ভিক্ষের সময় যখন করোনা (কভিড-১৯) মহামারি রূপ ধারণ করেছে, চারদিকে দুঃখের হাহাকার, মানুষ খাবারের অভাবে ভুভছে, সেখানে কিভাবে বাড়ি ভাড়া দেই। এই টাকা এমন দুঃসময়ে কাজে লাগিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাই।আর এমনিতেই সবার সব ধরনের উপার্জন বন্ধ, তাই অনতিবিলম্বে বাসা ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আরেক শিক্ষার্থী রনি বলেন,  করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও দিতে হবে মেস ভাড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশই টিউশনির টাকায় মাসিক খরচ চালায়। এমন পরিস্থিতিতে টিউশন না থাকায় তাদের তাদের ম্যাস ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ চালাতে বেশ অসুবিধাই হয়ে পড়ছে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে মেস ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। সেক্ষেত্রে বর্ষবরনের টাকায় শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের ব্যাপারে সিএনআই এর সাথে খোলাখুলি কথা বলেছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মালিকদের সাথে কথা বলে সমঝোতা আনতে পারে। শিক্ষার্থীরা যে বাসায় ভাড়া থাকে তা লোন বা কিস্তিতে ও হতে পারে, সেক্ষেত্রে তাদের ভাড়া থেকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। আবার অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা টিউশনির টাকায় মাসিক খরচ চালায়। তাদের পক্ষে ২-৩ মাসের ভাড়া দেয়াটা কঠিন হয়ে পরবে।
এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা রেজিস্টার বা ছাত্রকল্যাণ বরাবর আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষক সমিতি ও ছাত্রদের পক্ষে কথা বলতে পারে। যদি ১১ এপ্রিলের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নাও হয় সেক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়ার জন্য সরকারের কাছে যেতে হবে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এগিয়ে আসলেই সমাধান সম্ভব। সর্বোপরি প্রশাসন, শিক্ষক, ছাত্র, মালিক পক্ষ সবাই এগিয়ে আসলে সমাধান খুব সহজ বলে মনে করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বাড়ি ভাড়া শিক্ষার্থীদের পার্সোনাল ব্যাপার। সরকার বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাজেট দেয় এবং সেই হিসেবেই চলে। ইতোমধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের যাদের অবস্থা খারাপ তাদের আমাদের পহেলা বৈশাখ ও স্বাধীনতা দিবসের বাজেট দিয়ে সাহায্য করেছি।