৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪১

বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে : প্রধান বিচারপতি

ন্যাশনাল ডেস্ক: প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আমরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনও দেখিনি। আপনারা এজলাস কক্ষে যে আচরণ করেছেন তা নজিরবিহীন।

বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তী জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জামিন শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট না আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১২ই ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। এ সময় আদালতে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হট্টগোল বেধে যায়। পরে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করে আপিল বেঞ্চ। এরপর থেকে ওই কক্ষেই অবস্থান করেন খালেদার পক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বারবার খালেদা জিয়ার জামিনের কথা বলতে থাকেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি তাদের কথায় কান দেননি। দু’পক্ষের আইনজীবিদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অন্যান্য বিচারপতিরা এজলাস থেকে বের হয়ে যান। তবে খালেদার জামিন না হওয়ায় বিএনপিপন্থি বিচারপতিরা এখনো এজলাসে অবস্থান করছেন। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপেল বেঞ্চে ১১ টা ৪৫ মিনিটে এজলাসে প্রবেশ করেন। পরে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরাও এজলাসে প্রবেশ করলে আবারও তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। প্রধান বিচারপতির এজলাসে থাকা অবস্থাতেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। স্লোগানে তারা বলেন, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, শেম শেম বলে, খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়া। পরে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা স্লোগান দিতে দিতে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর ১টা ২০ মিনিটে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ। এজলাস কক্ষ ত্যাগ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা আইনজীবী সমিতিতে খন্ড খন্ড মিছিল করছেন। প্রসঙ্গত, গত ২৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ‌্য বিষয়ক মেডিক‌্যাল বোর্ডের রিপোর্ট ৫ ডিসেম্বরের মধ‌্যে দাখিলের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ‌্যালয়ের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিক‌্যাল বোর্ডকে এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।