১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং, শনিবার
২৩শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

কমলা চাষে সফল টাঙ্গাইলের শামসুল আলম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চায়না কমলা বাগান করে সাফল্য পেয়েছেন শিক্ষক শামসুল আলম। তার বাগানের শতাধিক গাছে থোকায় থোকায় কমলা ধরেছে। কমলা আকারে যেমন বড়, তেমন স্বাদও সুমিষ্ট। বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার ফল চাষিরা। ভালো ফলন দেখে উৎসাহী হয়ে অনেকেই কমলা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন। ঘাটাইল উপজেলার উত্তর সীমান্তে রসুলপুর গ্রামে শামসুল আলমের কমলা বাগান। ছয় বছর আগে শামসুল আলম তার পৈত্রিক সাত একর জমিতে ফলের বাগান করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রায় তিন বছর আগে সেই বাগানে শতাধিক কমলার চারা রোপণ করেন। এবারই প্রথম গাছগুলোতে ফল এসেছে। সরেজমিন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে প্রচুর কমলা ধরেছে। কোনোটা পেকে হলুদ হয়ে গেছে। আবার কোনোটা সবুজ। শামসুল আলম নিজেই কমলার বাগান পরিচর্যা করছেন। তিনি জানান, এর আগে এই এলাকায় অনেকেই কমলার বাগান করে সফল হতে পারেননি। সে সময় কমলার যে ফলন তারা পেয়েছিলেন তা ছিলো অত্যন্ত টক। কিন্তু তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কমলার বাগান করেছিলেন। প্রথম বছরেই সাফল্য পেয়েছেন। সর্বোচ্চ তিন শতাধিক কমলা ধরেছে একটি গাছে। রসুলপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, এক একর জমি প্রস্তুত করেছেন কমলা চাষের জন্য। এছাড়া ঘাটাইলের শালিয়াবহ গ্রামের মোখলেছুর রহমান, উপজেলা সদরের মনছুর আলী, পার্শ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার বেতবাড়ী গ্রামের আব্দুস সাত্তারও কমলার বাগান করেছেন। শুধু ওই এলাকা নয়, আশপাশের জেলা থেকেও উৎসাহী মানুষ এসেছেন কমলার বাগান দেখতে। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ইকবাল হোসেন জানান, কমলা চাষের সাফল্য দেখে তিনি অভিভূত। শামসুল আলম জানান, প্রথমবার অনেক কমলা আত্মীয় স্বজন, এলাকার মানুষ, দেখতে আসা উৎসাহী মানুষদের দিয়েছেন। বাগান থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করছেন। যখন কমলা বাগান করি তখন অনেকেই নানা কটুক্তি করতেন। তবে প্রমাণ হয়েছে এখানেও মিষ্টি জাতের ভাল কমলার ফলন হবে। টাঙ্গাইল কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ অঞ্চলের মাটি কমলা চাষের উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে কমলা গাছ রোপণ পরিচর্যা বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের কমলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও দিচ্ছেন।