১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার
২৪শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

মোহরানা : আপনার স্ত্রীর অধিকার

সিএনআই ডেস্ক: একজন নারীর সবকিছু আপনার জন্য বৈধ বা হালাল হওয়ার অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে মোহর। যা পরিশোধ করা আপনার ওপর ফরজ। মোহরানা পরিশোধ না করে বৌয়ের হাত ধরে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার চিন্তা কোনো পুরুষ করতে পারে না। আর আপনি তো একজন ঈমানদার আত্মমর্যাদা সম্পন্ন সুপুরুষ। সংসার জীবন পবিত্র ও সুখময় না হওয়ার অন্যতম একটি কারণ স্ত্রীকে তার প্রাপ্য মোহর পরিশোধ না করা। আজকাল নানান অজুহাতে স্ত্রীকে বঞ্চিত করা হয় মোহর থেকে। অপমানিত করা হয় নতুন মেহমানটিকে। আপনি তাকে মোহরানার সম্পূর্ণ সম্পদ বা টাকা তার হাতে তুলে দিন। তারপর সে এটা বাপ-ভাইকে দেবে, না নিজে খরচ করবে, নাকি আপনাকে দেবে, এটা তার ব্যাপার। দেখুন মহান আল্লাহ কী বলছেন,

﴿وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِيْـئًا مَّرِيْـئًا﴾

‘নারীদেরকে তাদের মোহর আনন্দচিত্তে দিয়ে দাও। এরপর তারা যদি খুশি মনে তা থেকে তোমাদের জন্য কিছু ছেড়ে দেয়, তবে তা তৃপ্তির সাথে ভোগ করতে পারো।’ [সুরা নিসা, ৪:৪] আজকের সমাজে মোহরানা ধার্য করা হয় স্বামীর সামর্থ্যের বহু ঊর্ধ্বে, যা পরিশোধের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক ঈমানদার স্বামী পরিশোধ করতে পারে না। এমন জুলুমের জবাব তাদেরই দিতে হবে, যা অযাচিতভাবে সাধ্যের বাইরে এমন মোহর ধার্য করতে বাধ্য করেছে। এ রকম পরিস্থিতির শিকার হলে বরের সুস্পষ্টভাবেই এ কথা জানিয়ে দেওয়া উচিত যে, আমার পক্ষে এত মোহরানা প্রদান করা সম্ভব না। পরে ঘানি টানার চেয়ে আগেই ব্যাপারগুলো ক্লিয়ার করে নেওয়া উচিত। সমাজে এ রকম ঘটনাও ঘটছে যে, স্ত্রী পরকীয়া করছে, স্বামী বাধা দিতে পারছে না। বাধা দিতে গেলেই স্ত্রী বলছে, তালাক দিয়ে দাও। কিন্তু বেচারা সাধ্যাতীত অংকের মোহরানা আদায় করতে না পারায় তালাকও দিতে পারছে না। শ্বশুরপক্ষের লোকদেরও সতর্ক থাকা উচিত। আপনাদের কারণে যদি মোহরানা পরিশোধ করতে না পেরে আপনার মেয়ের জামাই পাপী হয়, তবে এর দায়ভার কিন্তু আপনাদেরও বহন করতে হবে। আরেকটা লজ্জাজনক ব্যাপার হলো, অনেক মা-বাবা চিন্তা করে, যদি বিয়ে ভেঙে যায় তবে থানা-কেস বা বিচার-মজলিস করে মোহরানাটা তো আদায় করা যাবে, কিংবা মোহরানা আদায়ের ভয়ে মেয়েকে তালাক দিতে পারবে না! বিয়ের আগেই যদি এমন মন্দ নিয়ত থাকে তবে সেই বিয়েতে বরকত হবে কীভাবে?