১৭, অক্টোবর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১

মালয়েশিয়ায় ফের জাল ভিসা তৈরি, বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ১৭

সিএনআই ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় জাল ভিসা তৈরির সিন্ডিকেটের ১৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৮-১০ অক্টোবর মালয়েশিয়ার ক্লাং ও শাহ আলমের ১১টি স্থানে পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। সেলাঙ্গরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান এসিপি ফজলসিয়াম আবদুল মজিদ বলেন, এই ১৭ জনের মধ্যে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্থানীয় এক ব্যক্তি ও স্থানীয় একজন নারী, সাত পাকিস্তানি এবং আটজন বাংলাদেশি রয়েছে। যাদের বয়স ১৯ থেকে ৪০ বছররের মধ্যে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফজলসিয়াম বলেন, গত এক বছর ধরে সিন্ডিকেটটি সক্রিয় ছিল এবং দু’জন মাস্টারমাইন্ডের নেতৃত্বে স্থানীয় একজন পুরুষ এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক যার নিজের কোনো পাসপোর্ট ছিল না। স্থানীয় একজন নারী এবং আট জন পুরুষ সাপ্লাইয়ার হিসেবে এ সিন্ডিকেটে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল। সিন্ডিকেটটি ক্লাং ভিত্তিক অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিকদের মাঝে জাল ভিসা সরবরাহের ব্যবসা করে আসছিল। সিন্ডিকেটের প্রধান কাজের ধরন ছিল, ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে মালায়েশিয়ায় আসা অবৈধ বিদেশি কর্মীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের নকল ওয়ার্ক পারমিটের অফার দেওয়া। এরপর সেলাঙ্গরে নিয়োগকারীদের কাছে তাদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হত। তিনি বলেন, তদন্তে প্রায় ৩০ জন বিদেশি জাল ওয়ার্ক পারমিটসহ ইতোমধ্যে নিয়োগকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে পুলিশ বিশ্বাস করে তাদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। সিন্ডিকেট প্রতিটি জাল পারমিটের জন্য ৪০০ রিংগিত করে নিত এবং মনে করা হচ্ছে এক মাসে তাদের ৫, ০০০ রিংগিত সমপরিমাণের মুনাফা আসত। অভিযানকালে জব্দ করা আইটেমগুলোর মধ্যে দুটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টিং মেশিন এবং দুটি জাল পারমিট, পাশাপাশি ছয়টি আই-কার্ড (বিদেশিদের দেওয়া ব্যক্তিগত পরিচয় দলিল) জাল বলে সন্দেহ করা হয়। প্রতারণা ও বেআইনিভাবে ভুয়া পারমিট বিতরণ করার অপরাধে দণ্ডবিধির ৪০২ ধারায় তদন্তের জন্য ১৭ জনের মধ্যে আটজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। ফজলসিয়াম সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ অক্টোবর পুচংয়ের একটি দ্বিতল ভবনের বাড়ি থেকে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৮ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগীদের পাঁচটি পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়, যাদের মধ্যে চারটি মাদক, অবৈধ দাদন ব্যবসার কার্যক্রম এবং হামলার সাথে সম্পর্কিত অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত এক বছরে জাল ভিসা তৈরি ও সরবরাহের অপরাধে প্রায় ২০ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গ্রেফতারদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল জরিমানা করা হয়েছে।