১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার
২৪শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

কটিয়াদীতে বোরো আবাদের ধুম!

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ঘুম থেকে উঠেই ফসলের মাঠে ছুটছেন কৃষক।কুয়াশা ভেজা পথ মাড়িয়ে লাঙ্গল কাঁধে ছুটছেন বোরো ক্ষেতে। করছেন জমি প্রস্তুত।আর যারা আবাদি জমি প্রস্তুত করেছেন তারা বীজতলা থেকে চারা তুলে লাগিয়ে দিচ্ছেন ক্ষেতে।কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রতিটি গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা মিলছে এমন দৃশ্য। আজ সকালে ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া, বনগ্রাম, চান্দঁপুর, করগাওঁ, জালালপুর,লোহাজুড়ি, সহস্রাম ধুলদিয়া, আচমিতা,কটিয়াদী পৌরসভার সব এলাকায় বোরো আবাদের কর্মযজ্ঞ। নদীর পাড়ে, খালের ধারে, ট্রেনলাইনের পাশে জমিতে বিস্তৃীর্ণ ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা। কোথাও গভীর নলকূপ থেকে চলছে জলসেচ।আবার ট্রাক্টর,পাওয়ার টিলার ও গরুর লাঙ্গলে চলছে কোথাও জমি চাষের কাজ। চান্দঁপুর এলাকার হাওরে বোরোর বীজতলা তৈরির সময় কথা হয় কৃষক আতাউর রহমান তিনি জানান, তিন বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সে জন্য ৪ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যে ১ বিঘা জমি চাষ সম্পন্ন হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যেই চারা বুনবেন।মসুয়া গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া জানান,তাদের মাঠে পুরোদমে জমি তৈরির কাজ চলছে।অনেকে রোপন শুরু করেছেন।আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে মাঠে ধানের সবুজ চারায় ভরে যাবে। জালালপুর ইউনিয়নসহ অন্যান্য এলাকার কৃষকরা বলেন, লাগাতার ধানের দাম না থাকার কারণে আবাদি জমির পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হচ্ছে।আবার যতদিন যাচ্ছে ফসল উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি প্রতিদিন সর্বনিম্ন সাড়ে ৩শ’ টাকার ওপরে দিতে হচ্ছে।ডিএপি সার প্রতি বস্তা ৭৮০-৭৯০ টাকা, ইউরিয়া সার বস্তা প্রতি ৮০০টাকা,এমওপি ৭৫০টাকা।এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য খরচ।এবছর শুধুমাত্র ডিএপি সারের দাম কমেছে।বাকি সারগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।এই সারগুলোর দাম কমলে উৎপাদন খরচ কমতো।এছাড়া কীটনাশকের দাম কখন বাড়ে আর কখন কমে তা বলা অসম্ভব। কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুকশেদুল হক জানান ১ হেক্টর জমিতে তৈরি করা বীজতলার চারা দিয়ে ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা যায়।এবার ১২ হাজার ৮শত ১৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হতে পারে।উপজেলা কৃষি অফিস হতে সকল পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং উপ-সহকারীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্চেন।আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ও কোন রকম প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ধানের বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষকরাও ভাল লাভবান হবে আশা করি।