১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৯ মুহররম ১৪৪১

আযানের জন্য ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী

আদনান মেন্দেরেস। জন্ম ১৮৯৯ সালে, তুরস্কের আইদিন প্রদেশের কোচারলিতে, ক্রিমিয়ান বংশোদ্ভূত এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে। গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন আনকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে। তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি গ্রিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এ জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় পদকও লাভ করেন। ১৯৩০ সালে তিনি লিবারেল রিপাবলিকান পার্টি নামে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। দলটির বিলুপ্তির পর ১৯৩১ সালে কামাল আতাতুর্কের আমন্ত্রণে রিপাবলিকান পিপলস পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৪৫ সালে দলীয় কোন্দলের শিকার হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ১৯৪৬ সালের ৭ জানুয়ারি আদনান মেন্দেরেস ও জালাল বায়ার ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কুতাহিয়ার ডেপুটি নির্বাচিত হন। ১৯৫০ সালের ১৪ মে তুরস্কের প্রথম স্বাধীন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি ৫২% ভোট পায়। মেন্দেরেস প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৫৪ ও ১৯৫৭ সালের নির্বা‌চনেও তিনি জয়ী হন। তার ১০ বছর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তুরস্কের অর্থনীতি বার্ষিক ৯% হারে বৃদ্ধি পায়। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়। মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তৎপর ছিলেন তিনি। তার সুষম অর্থনৈতিক নীতির কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। আর এ সময় তিনি প্রবলভাবে ধর্ম-কর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন, অথচ ইতঃপূর্বে তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর একজন সেক্যুলার। কামাল আতাতুর্ক ইসলামের যে বিষয়গুলো বন্ধ রেখেছিল আদনান আবার সেগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালু করেন। কয়েক হাজার মসজিদ পুনরায় চালু করেন। আরবিতে আযান নিষিদ্ধ ছিল, তিনি আবার তা চালু করেন। এজন্য কামাল আতাতুর্কের ভাবশিষ্য ও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রচণ্ডভাবে ক্ষেপে যায়। ১৯৬০ সালের ২৭ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানে তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের সংবিধান লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। তন্মধ্যে অন্যতম একটি ছিল আরবি ভাষায় আযান চালু করা। ১৯৬১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মারমারা সাগরের জনমানবহীন ইমরালি দ্বীপে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।