২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১

ফিলিস্তিনদের জন্য যুদ্ধে গিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন এক বাংলাদেশি

নির্যাতনের শিকার ফিলিস্তিনিদের জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে গিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন এক বাংলাদেশি। অঞ্চলটির নিপীড়িত লোকদের সহায়তার জন্য আশির দশকে দেশ ছেড়ে লেবানন যান তিনি। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানী বৈরুতে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, 'সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষে আবু সামা নামে সেই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরানোর জন্য ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হয়েছে। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায় বলে এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।' দূতাবাস কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাকে একটি বিমান টিকিট দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আজকে টিকিট নিতে তিনি এসেছিলেন। আগামী রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকালে দেশের উদ্দেশে লেবানন ছাড়তে পারেন তিনি। পরবর্তীতে সোমবার সকাল ১০টায় তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।' কর্মকর্তাদের দাবি, গত মাসে রাষ্ট্রদূত বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিলে তিনি সেই দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যথারীতি দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় এই সুযোগটি পাবেন দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিরা। রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব বলেন, 'ফিলিস্তিন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আশির দশকে প্রথম দেশ ছাড়েন আবু সামা। যদিও এর প্রায় ছয় বা সাত বছর পর একবার দেশে ফেরেন তিনি। এর পর আবার এসে আর কোনো দিন দেশে যেতে পারেননি তিনি।' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, 'আমি সেই ব্যক্তির অনুভূতি বুঝতে চেয়েছিলাম। তিনি শুধু আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন। কোনো কিছুই বলতে পারছিলেন না।' আর মাত্র দুই বছর পর সত্তর বছরে পা দেবেন ফিলিস্তিনিদের হয়ে লড়াই করা এই বাংলাদেশি। আবদুল মোতালেব সরকার বলেন, 'তার বাকি জীবন পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে সুখে ও শান্তিতে কাটুক- আমি এ কামনাই করছি।' আবু সামার আট সন্তানের জনক, যাদের মধ্যে পাঁচজন মেয়ে। বর্তমানে তাদের অনেককেই চেনেন না তিনি। তার সব সন্তানই বিবাহিত। বর্তমানে তারা জীবিকার সন্ধানে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন।