১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার
২৪শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

বাঁধ থেকে ঘর উচ্ছেদের পর চৌকি এখন মাথার গোঁজার ছাঁদ!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ একাত্তরে স্বামী সন্তানকে হারিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষাবাঁধে আশ্রয় নিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করে আসছিলেন সত্তোর্ধো মিনুবালা। এবার সে আশ্রয় টুকুও হারিয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছেন তিনি। বাঁধ থেকে ঘর উচ্ছেদ করে দেয়ায় চৌকি এখন তার মাথার গোঁজার ছাঁদ। মিনুবালার মতো ষাটোর্ধো ইসাহক ও হাসনা দম্পত্তিও আশ্রয় হারিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিন ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের আশ্রিত মানুষ নিরুপায় হয়ে অন্যত্র বাসস্থান সরিয়ে নিলেও সত্তোর্ধো মিনুবালা উচ্ছেদ করে দেয়া ধ্বংস স্তুপের উপর চৌকি পেতে তার নিচে মাথার গোঁজার ছাঁদ করে নিয়েছেন। এরপর কোথায় গিয়ে উঠবেন, কি করবেন জানা নেই মিনুবালার। অন্যের বাড়িতে ভিক্ষে করে দিনাতিপাত করা মিনুবালা শেষ আশ্রয় টুকু হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাত্তরের যুদ্ধের সময় মিনুবালার স্বামী খগেন তার ৯ বছরের ছেলে সন্তানকে নিয়ে হারিয়ে যান। দেশ স্বাধীনের পর স্বামী-সন্তান ফিরে আসার পথ চেয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের রমনা মিয়াপাড়া এলাকায় মিনুবালা ছোট একচালা ঘর তুলে সেখানে দিনাতিপাত করে আসছিলেন।
সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চর এলাকা থেকে চিলমারী পর্যন্ত ৫২.৭ কিলোমিটার বাঁধ এলাকায় আশ্রিত নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বহারা পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ফলে সেখানে বসবাস করা মিনুবালার মতো ৪০ হাজার মানুষের সামনে অনিশ্চিত জীবন।
বাঁধ থেকে উচ্ছেদ হয়ে বাঁশঝাড়ের পাশে পরিত্যাক্ত একটা ভিটেয় আশ্রয় নেয়া ইসহাক আক্ষেপ করে বলেন, ছেলে-মেয়ে নেই। দু’দিন থেকে না খেয়ে আছি, কেউ একমুঠো ভাতও দেয়নি। এ পরিত্যাক্ত ভিটেয় দু’মাসের জন্য তাদের থাকতে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপর কোথায় গিয়ে উঠবেন তার জানা নেই।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, বন্যার ভয়বহতা প্রতি বছর বাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সংস্কার করবে। বাঁধে আশ্রিত মানুষগুলোকে জনস্বার্থেই সরে যেতে হবে। পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য খাসজমি-আবাসনসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।