২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

জাপার বিবাদ প্রকাশ্যে: এরশাদের শূন্য আসনে বিএনপি!

পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির (জাপা) গৃহবিবাদ প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণার সিদ্ধান্ত মানছেন না পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। এ নিয়ে সোমবার রাতে একটি বিবৃতিতে রওশন এরশাদ বলেন, জিএম কাদেরকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়নি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই থাকবেন। রওশনের এ বিবৃতিতে পার্টির নয়জন প্রেসিডিয়াম সদস্য সমর্থন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও জিএম কাদের রওশনের এ বিবৃতি বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন। এদিকে জিএম কাদেরকে নিয়ে এতোদিন যে বিভক্তি ছিল তা রওশনের বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলো বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন নিয়ে এ বিভক্তি আরো বাড়বে। এনিয়ে সঙ্কট তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, এরশাদের মৃত্যুতে তার আসন রংপুর-৩ এখন শূন্য। জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলে বিবেচিত এ আসনে নির্বাচন করার কথা ভাবছে বিএনপি। দলটি প্রার্থী বাছাইয়ে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিবেচনা করতে পারে। অবশ্য বিএনপির দায়িত্বশীল অনেক নেতাই বলছেন, ভোটে যাওয়া ও প্রার্থী বাছাই, সবকিছুই নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির ভাঙাগড়ার দিকেই নজর থাকবে বিএনপির। রংপুরের এ আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টিই জিতেছে। বিএনপি এটাও জানে এখানে জিততে হলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চা্য় বিএনপি। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এখানে উত্তরাঞ্চলের নেতারা প্রাধান্য পাবেন। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। উল্লেখ্য, সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রংপুর-৩ সদর আসনটি শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি ওয়েবসাইট থেকে তার নামটি সরিয়ে নিয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আসন শূন্য হওয়ার দিন থেকেই নব্বই দিন গণনা করা হয়। এক্ষেত্রে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ঐ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিএনআই/কেআই