২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ফার্স্টক্লাস পেয়েছেন চোখ হারানো সেই সিদ্দিক

পরীক্ষার দাবিতে সহপাঠীদের সঙ্গে আন্দোলনে গিয়ে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই শাহবাগে পুলিশের টিয়ারশেলে চোখ হারানো সেই শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর অর্নাসে ফাস্ট ক্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের সংকট সমাধান ও পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনে গিয়ে চোখ হারালেও,নিজেকে গুটিয়ে রাখেন নি। স্বপ্নচূড়ায় পৌঁছাতে নিজের অদম্য ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্দিকুর আগের মতোই ছুটে চলছেন। চোখের আলো ছাড়াই তৃতীয় ও শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে নিজে লিখে নয়, পরীক্ষা দিচ্ছেন শ্রুতি লেখকের সাহায্যে। তাকে পরীক্ষায় সহযোগিতা করছেন একই কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন মৌ। অর্নাস চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখন তিনি মার্স্টাসে ভর্তি হবেন। ইতোমধ্যে কম্পিউটার ও ব্রেইল প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ করেছেন। নিজ যোগ্যতায় হতে চান দেশের সর্বোচ্চ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডার। একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখতে চান সিদ্দিকুর রহমান। ফাস্টক্লাস পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির টেলিফোন অপারেটর পদে চাকরি করছেন সিদ্দিক। জীবনে যা ঘটে গেছে তা নিয়ে আর ভাবতে চান না সিদ্দিক। ২০১৭ সালকেই ভুলে যেতে চান তিনি। ২০ জুলাইয়ের কথা মনে করতে চান না। বিভীষিকাময় ওইদিনটি সিদ্দিকের কাছে বিষাদের। চোখের জ্যোতি নিভিয়ে যাওয়া সিদ্দিকুর রহমানের এখন একটাই চাওয়া পুরো সেশনজটমুক্ত হোক ঢাবির অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ। গ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণ হোক। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২০ জুলাই পরীক্ষার রুটিন ও তারিখ ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের ছোঁড়া টিয়ার সেলে চোখে গুরুতর আহত হন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। পরে তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার ডান চোখে আলো ফেরার সম্ভাবনা নেই এবং বাম চোখের অবস্থাও ভালো না বলে জানিয়ে দেন চিকিৎসকরা। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের তত্ত্বাবধানে তাকে চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করেও সিদ্দিকুরের চোখে আলো ফেরেনি।