১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৯ মুহররম ১৪৪১

সাংবাদিক জিনিয়াকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে ববিতে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) দ্যা ডেইলি সান পত্রিকার প্রতিনিধি ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শামস জেবিনের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দুপুর সাড়ে ১২টায় মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নগণ্য একটি পোস্টের কারণে তাকে বহিষ্কার করার মাধ্যমে বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসন মূলত তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের সকল অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের একঘেয়েমি, স্বৈরতান্ত্রিকতা ব্যতীত আর কিছুই নয়। তাই অনতিবিলম্বে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং উপাচার্যের সকল অনিয়মের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, ‘ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ ও শামস্ জেবিনের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতার ওপর হামলার শামিল। বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও শামস্ জেবিনের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করার। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী সকলের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে জিনিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তথ্য জানার কৌশল ছিল মাত্র যা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জিনিয়ার বহিষ্কার সম্পূর্ণ বেআইনি।’ এছাড়াও মানববন্ধনে সাংবাদিকতা বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তারিক, রাজু আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন। মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব-আল হাসান। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ডেইলি সান পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘একজন উপাচার্যের কাজ কি?’ লিখে পোস্ট করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট ও উপাচার্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট হ্যাকের মাধ্যমে ২০১৯-২০ ভর্তি পরীক্ষা বানচালের অভিযোগ এনে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। ফাতেমা তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে র্নিদোষ দাবি করেন। উপাচার্য ও জিনিয়ার একটি ফোন রের্কডিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন বশেমুরপ্রবি উপাচার্য। জিনিয়াকে সমর্থন করার কারণে আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি শামস্ জেবিনের ওপরও ন্যক্কারজনক হামলা করা হয়।