১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

‘মাকে ফোন দাও, চিপস আনবে’

তাসনিম মাহিরা তুবা। বয়স সবে চার। এই বয়সে আর পাঁচটা শিশুর মতো মায়ের কোলে বড় হওয়ার কথা ছিল তুবার। কিন্তু একটি গুজব (ছেলেধরা) শেষ করেছে দিয়েছে তুবার রঙ্গিল দিনের স্বপ্ন। মাকে ছাড়াই এখন বাকি জীবনটা পার করতে হবে তাকে। হাজারো লোকের ভালোবাসা পেলেও আর কখনো মায়ের ভালোবাসা ফিরে পাবেনা তুবা। কারণ তার মা (তাসলিমা বেগম রেণু) পাড়ি জমিয়েছে না ফেরার দেশে। ছোট্ট তুবা এখন বুঝতে শেখেনি বাস্তবতা। শিশুটি জানেনা তার মা কোথায়। তুবা জানে তার মা তার জন্য চিপস আনতে বাইরে গেছে। তার বিশ্বাস কিছু সময় পরেই মা ফিরে আসবে। কিন্তু দীর্ঘ ছয়দিনেও মা ফিরে না আসার তুবার মেজাজ ভালো যাচ্ছেনা। সবকিছু নিয়ে বায়না ধরছে শিশুটা। কোন কিছু একটু এদিক সেদিক হলেই চিৎকার, কান্নাকাটি জুড়ে দিচ্ছেন বার বার। ভাইয়ের সঙ্গে খেলার মাঝে মাঝে তুবা ফিরে আসেন পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে। বলেন, ‘মাকে ফোন দাও, চিপস আনবে’। ছয় দিনে তুবার সাথে যারাই দেখা করতে এসেছে প্রত্যেকে তুবার ছবি তুলেছে। এখন আর তুবা ছবি তুলতে চায়না। কারো হাতে মোবাইল বা ক্যামেরা দেখলেই তুবা বলে ওঠে, ‘আমি ছবি তুলব না’। রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাসলিমাকে দাফন করা হয়েছে। মায়ের দাফন শেষে তাহসিন ও তাসনিম তুবা দুই ভাইবোন নানির বাসায় এসেছে। তুবা ও তার মা এই বাড়িতেই থাকতেন মায়ের সঙ্গে। তার ভাই থাকতেন বাবার সাথে গ্রামে। তাসলিমা বেগমের মা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা একমাত্র ভাই ও অন্য চার বোন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসলিমা বেগমের দুই ছেলেমেয়েকে তাঁদের কাছে রাখবেন, পড়াশোনা করাবেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাসলিমা বেগম রেণু। ছেলেধরা সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় তাসলিমার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা চার শ থেকে পাঁচ শ মানুষকে আসামি করে মামলা করেন। নিহত তাসলিমার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। মহাখালীতে চার বছরের মেয়ে ও মাকে নিয়ে থাকতেন তাসলিমা। দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১১ বছরের এক ছেলেও আছে নিহত তাসলিমার।