২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১

বয়স্কভাতার কার্ডের জন্য তিন জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ ঘোষণা!

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদহ এলাকায় বয়স্কভাতার কার্ডের জন্য একই গ্রামের তিন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের স্থলে একই গ্রামের অন্য তিন ব্যক্তিকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। জীবিত যে তিন ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে তারা হলেন- চাকদহ গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকার, খুশি মোহন ও আরজু মিয়া। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাশেম মিয়া চাকদহ গ্রামের উপজাতি না থাকা সত্ত্বেও ২১ জনের নামে কার্ড করে ভাতা তুলে আত্মসাৎ করছেন। সেই সঙ্গে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হতেয় গ্রামের আবেদ আলীর মৃত্যুতে তার স্থলে ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদহ গ্রামের আব্দুল জলিল মিয়াকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দিয়েছেন ইউপি সদস্য মো. হাশেম। জীবিতদের মৃত ঘোষণা করে তাদের স্থলে কার্ড পাওয়া তিন ব্যক্তি হলেন- চাকদহ গ্রামের মৃত রাজ্জাক মল্লিকের ছেলে মো. রবি মল্লিক, মৃত নূর মল্লিকের ছেলে মো. এরশাদ মল্লিক ও মৃত মাজম শিকদারের ছেলে রহমান শিকদার। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় এক বছর আগে তাদের বয়স্কভাতা বন্ধ হলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জানতে পারেন তাদেরকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের স্থলে নতুন করে ওই এলাকার মো. রবি মল্লিক, মো. এরশাদ মল্লিক ও রহমান শিকদারকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। পরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা। এদিকে, নানা অভিযোগে ওই ইউনিয়নের ইউপি সচিব মো. মোশারফ হোসেনের বদলির আদেশ থাকলেও তৃতীয়বারের মতো তা স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে ইউপি সদস্য ও সাধারণ জনগণের মধ্যে নানা ধরনের সমালোচনা চলছে। এছাড়া ওই এলাকায় কোনো উপজাতি না থাকলেও ২১ জন উপজাতির নামে ভাতা তুলে আত্মসাৎ করছেন ইউপি সদস্য মো. হাশেম। নতুন করে ৪২ জনকে অনগ্রসর ও উপজাতি হিসেবে ভাতার কার্ড করে দেবে বলে পাঁচ হাজার করে টাকা নিয়েছেন তিনি। সরকারি টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে ১৫ জনের কাছ থেকে ৮ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। এসব বিষয়ের জন্য ইউপি সদস্য মো. হাশেমের পাশাপাশি ইউপি সচিব মো. মোশারফ হোসেনকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে মোশারফ হোসেন এই পরিষদের সচিব হিসেবে যোগদান করে জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ নানা ধরনের কাজের জন্য জনগণের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছেন। জনগণ আমাদের কাছে অভিযোগ করে এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন ওই সচিব। বদলির আদেশ স্থগিত করার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, আমার বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন সনদ নিতে জনগণের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জীবিত ব্যক্তিদের মৃত দেখিয়ে ভাতার কার্ড প্রসঙ্গে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. হাশেম মিয়া বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ ঘটনায় চক্রান্ত করে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।